বুধবার
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিডনিতে পাথর ঠেকাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবারগুলো

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। রক্ত পরিশোধনের পাশাপাশি শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিভিন্ন কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। পানি কম পান করা, প্রস্রাবে কিছু খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকা এর অন্যতম কারণ।

কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা একবার তৈরি হলে খাবার ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কিছু সহজ অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

পানিকে দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়।

তখন বিভিন্ন খনিজ ও লবণ জমে ক্রিস্টাল তৈরি করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে পাথরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। বিশেষ করে গরম পরিবেশে কাজ করলে বা অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার একেবারে বাদ নয়

কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা থাকলে অনেকে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। তবে তা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিমসহ পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অপ্রয়োজনে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়ামের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

ভিটামিন ডি ও পুষ্টিকর খাবার

শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিমিত সময় সূর্যের আলোতে থাকাও উপকারী।

ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে খাবারে সতর্কতা

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলেও কিডনিতে নির্দিষ্ট ধরনের পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমন ক্ষেত্রে লাল মাংস, ডাল ও সামুদ্রিক মাছ অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। নিজের ইচ্ছায় কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করা ভালো।

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার

লেবু, আমলকি, আমড়া, জাম ও জাম্বুরার মতো ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এসব ফলে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত কোনো ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে স্বাভাবিক খাবার থেকেই পুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করা ভালো।

জিংকের উৎস রাখুন খাবারে

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ হলো জিংক। ডিম, মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পাশাপাশি ডাল, শিমের বিচি ও মটরশুঁটি থেকেও জিংক পাওয়া যায়। সুষম খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখা যেতে পারে।

শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পর্যাপ্ত পানি পান, পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবকিছুর সমন্বয় জরুরি।

আর কারও আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে বা বারবার একই সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ পাথরের ধরন ও কারণ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শও ভিন্ন হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank