

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক ছাত্রদল নেতাসহ আটজন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার সঙ্গে জড়িত ছাত্রদল নেতা মাসুদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার এবং হামলায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, একটি একনলা শুটারগান ও আটটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে আটজন মিলে ওই বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র বলছে, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতার বাসায় গুলি করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে অস্ত্রসহ মাসুদ রানা ও তাঁর সহযোগী তরিকুল ইসলামকে (তাপস) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা প্রথম আলোকে বলেন, চারটি মোটরসাইকেলে এসে আটজন ওই বাসায় হামলা করেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
ভোর রাতে চারটি মোটরসাইকেলে আটজন এসে ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়কের বাড়ি লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যান। গত শুক্রবারের ঘটনা।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় বিএনপি নেতা এস এম রেজা চৌধুরীর বাসার সামনে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে নামেন। তাঁদের পেছনে পেছনে আরও তিনটি মোটরসাইকেল এসে বাড়িটির সামনে দাঁড়ায়। প্রথম মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন কাঁধে থাকা ক্রিকেট ব্যাটের প্যাকেট থেকে একটি একনলা শুটারগান বের করেন। অপরজন কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করে নিচের দিকে একটি গুলি করেন। পরে বাড়িটি লক্ষ্য করে একটি গুলি ছোড়েন। এরপর তাঁর হাত থেকে পিস্তল নেন শুটারগান বের করা ব্যক্তি। তিনি বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে আরও দুটি গুলি ছোড়েন এবং উচ্চস্বরে কিছু বলেন। পরে সবাই মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান।
গুলিবর্ষণের এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় রেজা চৌধুরী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা করেন।
ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়কের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ
ডেমরা থানার মামলায় রেজা চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকায় কিছু ব্যক্তি অনলাইনে মাদক কেনাবেচা করে আসছেন। তিনি মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণে তাঁর বাড়িতে গুলি করা হয়েছে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন চিৎকার করলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁর বাসায় গুলি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রদল নেতা মাসুদ আওয়ামী লীগ আমলে যাঁরা মাদক সিন্ডিকেট চালাতেন, তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। তিনি বলেন, মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ একবার তাঁকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন।
রেজা চৌধুরী বলেন, ‘মাসুদ একদিন আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, কাকা কেউ তো মাদক নিয়ে কথা বলে না। তাহলে আপনি কেন মাদক নিয়ে এত কথা বলেন?’
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শুধু মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণে এ হামলা হয়নি। এলাকার ফুটপাত, টেম্পোস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসব দ্বন্দ্বের জেরে তাঁর বাসায় হামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রেজা চৌধুরী বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।


