

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্যস্ততা, ওজন কমানোর চেষ্টা কিংবা সকালে ক্ষুধা না লাগা—বিভিন্ন কারণে অনেকেই দিনের প্রথম খাবারটি এড়িয়ে যান। এক–দুদিন এমনটা হলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট না খাওয়ার অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর সকালের খাবার শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়। তাই দিনের শুরুতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া কর্মক্ষমতা ও সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে
রাতভর উপবাসের পর সকালে শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কিছুটা কমে যায়। গ্লুকোজ মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তাই সকালের খাবার বাদ দিলে অনেকের ক্লান্তি, দুর্বলতা বা অবসাদ অনুভূত হতে পারে।
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস মনোযোগ ধরে রাখা, শেখার সক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়ক। নিয়মিত ব্রেকফাস্ট না খেলে এসব ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত ক্ষুধা বাড়তে পারে
সকালের খাবার বাদ দিলে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকে। ফলে পরে হঠাৎ বেশি ক্ষুধা লাগতে পারে এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে, যা ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতির কারণ হতে পারে।
মেজাজ ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অনেকের বিরক্তি, অস্থিরতা বা কাজে অনীহা দেখা দেয়। যদিও মানসিক সুস্থতা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তবু নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস ভালো কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।
পুষ্টির ঘাটতির ঝুঁকি
ব্রেকফাস্টের মাধ্যমে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা সহজ হয়। নিয়মিত সকালের খাবার বাদ দিলে এসব পুষ্টির দৈনিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
কী ধরনের ব্রেকফাস্ট ভালো?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিন, ফাইবার এবং জটিল কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার দিনের শুরুতে সবচেয়ে উপকারী। যেমন, ডিম, দুধ বা দই; ওটস বা গোটা শস্যের খাবার; মৌসুমি ফল; বাদাম ও বিভিন্ন বীজ; সবজি ও পূর্ণ শস্যের রুটি।
এ ধরনের খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন
সব মানুষের জন্য একই ধরনের ব্রেকফাস্ট প্রয়োজন হয় না। তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, দিনের শুরুতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মাঝে মধ্যে ব্রেকফাস্ট বাদ পড়লে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু নিয়মিত এ অভ্যাস চালিয়ে গেলে তা শক্তি, মনোযোগ, পুষ্টি গ্রহণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।