

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বজুড়ে দাম্পত্য জীবনে বয়সের পার্থক্যের একটি সাধারণ চিত্র দেখা যায়। গড়ে পুরুষেরা তাদের নারী সঙ্গীর চেয়ে ৪.২ বছরের বড় হন। মহাদেশভেদে এই চিত্রে ভিন্নতা রয়েছে- আফ্রিকায় এই পার্থক্য সর্বোচ্চ (৮.৬ বছর) এবং উত্তর আমেরিকায় সর্বনিম্ন (২.২ বছর)। মূলত বিভিন্ন সামাজিক প্রথা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করেই এই পার্থক্যের সৃষ্টি হয়।
তবে প্রশ্ন হলো, আদর্শ বয়সের পার্থক্য বলে কি সত্য়িই কিছু আছে?
গবেষণা কী বলছে?
১–৩ বছরের পার্থক্য: ২০১৭ সালের এক অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতির বয়সের পার্থক্য ১ থেকে ৩ বছর (যেখানে পুরুষ সঙ্গীর বয়স বেশি), তাঁরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুখী ও সফল।
৭ বছর বা তার বেশি পার্থক্য: বিবাহের ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যাদের বিচ্ছেদ ঘটে, তাঁদের একটি বড় অংশের বয়সের পার্থক্য ছিল ৭ বছর বা তার বেশি।
তবে ব্যতিক্রমও আছে: বয়সের ব্যবধান ৭ বছরের বেশি হওয়া সত্ত্বেও সারাজীবন সুখে কাটিয়ে দিয়েছেন—এমন দম্পতির সংখ্যাও কম নয়। এমনকি নারী বয়সে বড় হলেও অনেক দম্পতি অত্যন্ত সফলভাবে সংসার পরিচালনা করছেন।
বয়স কখন বা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বয়সের বিষয়টি মূলত শারীরিক স্বাস্থ্য, হরমোনের ভারসাম্য এবং সন্তান ধারণের সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে:
পুরুষের ক্ষেত্রে: বায়োলজিক্যাল দিক থেকে সন্তান জন্মদানের সেরা সময় ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫-এর পর শুক্রাণুর মান কমতে শুরু করে এবং ৫০-এর পর সন্তান জন্মদানে শারীরিক সক্ষমতা বেশ কমে যায়।
নারীর ক্ষেত্রে: মা হওয়ার জন্য সেরা সময় 'আর্লি টুয়েন্টিজ' (২০ থেকে ২৪) এবং ২৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যবর্তী সময়। ৩০ পেরোলে প্রজননক্ষমতা প্রায় ৫০% কমে যায় এবং ৪০-এর পর মা হওয়া মা ও শিশু দুজনের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
তাই নতুন জীবনের সূচনা ও সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার জন্য দম্পতির বয়স (বিশেষ করে নারীর বয়স ৪০-এর কম এবং পুরুষের বয়স ৫০-এর কম) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আসল চালিকাশক্তি: মানসিক মেলবন্ধন
শারীরিক ও জৈবিক চাহিদা বাদ দিলে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনে বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। সম্পর্কে আসল ভিত্তি গড়ে ওঠে কিছু গুণাবলীর ওপর:
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা ও যত্ন
মানসিকতার মিল এবং জীবন থেকে দুজনের চাওয়া এক হওয়া
দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনের চাওয়া যদি মিলে যায়, তবে বয়সের ব্যবধান কখনোই সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।