

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেয়াল যখন শিল্পীর ক্যানভাস, তখন পুরো ঘরেই যেন মিশে থাকে রঙ-তুলির ভালোবাসা। আধুনিক অন্দরসজ্জায় দেয়াল কেবল একটি কাঠামো নয়, বরং ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। উজ্জ্বল ও ভাইব্রান্ট রঙের ছোঁয়া অন্দরে যেমন আভিজাত্য আনে, তেমনই দেয়ালকে করে তোলে প্রাণবন্ত।
সাবেকি বা ভিনটেজ রূপের একটি চিরন্তন আবেদন রয়েছে, যা কখনো পুরনো হয় না। ঘরের দেয়ালে শুধু লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘মোনালিসা’ কিংবা ভ্যান গগ, পিকাসোর বিখ্যাত ছবিই নয়; দেশীয় শিল্পীদের আঁকা পেইন্টিংও দারুণ এক নান্দনিকতা তৈরি করে।
প্রবেশপথে একটি সুসজ্জিত আয়না, পাশে ফুল বা শোপিস এবং দরজা খুললেই লম্বা দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধানো ছবি পুরো ঘরে কলোনিয়াল বা ভিনটেজ আবহ ফুটিয়ে তোলে। কখনো দেয়ালজুড়ে প্রকৃতির ডালপালা, আবার কখনো রূপকথার রাজকন্যারা দেয়ালকে করে তোলে মোহনীয়।
তবে দেয়াল সজ্জার শুরুতে রঙের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। ঘরের আকার বুঝে পেইন্টিংয়ের ধরন নির্বাচন করতে হবে। যেমন- বসার বা খাবার ঘরে রাস্টিক বা প্যাটার্ন পেইন্ট দারুণ মানায়। ছোট ঘরের দেয়াল বা সিলিংয়ে সূক্ষ্ম নকশার থ্রি-ডি পেইন্টিং এবং উজ্জ্বল আলো ঘরকে বড় দেখায়। বেডরুমে কেউ পছন্দ করেন সাতরঙা রংধনু, কেউবা বেছে নেন শৈল্পিক কোনো নকশা।
নতুনত্ব আনতে বসার ঘরের দেয়ালে কাচ বা মেলামাইনের সাদা প্লেটে ফুল, পাখি বা বিভিন্ন মোটিফ এঁকে অ্যাসিমেট্রিক্যালি সাজানো যেতে পারে। এছাড়া প্রিয়জনদের ছবি দিয়ে তৈরি ফটো কোলাজ বা ওয়ালপেপারও দেয়ালের একঘেয়েমি দূর করে। বাজেট ও রুচির মেলবন্ধনে দেয়ালের বিপরীত রঙের ফ্রেমে ছবি বাঁধিয়ে টাঙালে তা সহজেই নজর কাড়ে।
শিশুদের ঘরের দেয়াল হতে পারে আরও রঙিন- কার্টুন, প্রজাপতি কিংবা মাটির টেরাকোটা দিয়ে সাজানো। আর তাদের আঁকিবুঁকির সহজাত প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে দেয়ালের একপাশে একটি হোয়াইট বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে। এভাবেই নান্দনিক পরিকল্পনায় ঘরের দেয়ালগুলো হয়ে উঠতে পারে জীবন্ত একেকটি ক্যানভাস।
