

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নখের গোড়ায় যে সাদা অর্ধচন্দ্রাকার অংশটি দেখা যায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় 'লুনুলা' (Lunula)। প্রাচীন আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান- সবজায়গায় নখের এই অংশটিকে স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়না হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটিকে ঘিরে যেমন অনেক চমকপ্রদ তথ্য আছে, তেমনি কিছু ভুল ধারণাও প্রচলিত।
লুনুলা এবং স্বাস্থ্যের সম্পর্কটিকে একটি নতুন আঙ্গিকে সহজভাবে বুঝে নেওয়া যাক:
রঙের বদল: শরীর যখন সংকেত দেয়
লুনুলার স্বাভাবিক রঙ সাধারণত নখের চেয়ে কিছুটা হালকা বা সাদাটে হয়ে থাকে। তবে এর রঙের যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তন শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে:
• ধূসর বা মলিন: এটি অতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তি বা পুষ্টিহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
• নীল বা বেগুনি আভা: রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকলে এমন হয়, যা সাধারণত শ্বাসকষ্ট বা তীব্র নাক ডাকার সমস্যায় দেখা যায়। এছাড়া এটি কপার বিপাকের সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।
• হলুদ বা লালচে ভাব: হলুদ দাগ মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। অন্যদিকে, লালচে ভাব হার্ট বা লিভারের জটিল কোনো রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
• কালো দাগ: এটি সাধারণত কোনো আঘাতের কারণে জমে থাকা রক্ত, তবে বিরল ক্ষেত্রে এটি গ্যাসজনিত বিষক্রিয়ার ফলেও হতে পারে।
অর্ধচন্দ্র না থাকা কি ভয়ের কারণ?
অনেকের নখেই কোনো অর্ধচন্দ্রাকার অংশ দেখা যায় না। এটি দেখেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আধুনিক চিকিৎসকদের মতে, লুনুলা না থাকার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে:
• এটি কখনো কখনো ধীর রক্ত সঞ্চালনের ইঙ্গিত দেয়।
• সবচেয়ে বড় কথা, এটি অনেকের নখের একটি সহজাত ও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক গঠন (Genetic Structure)। তাই নখে লুনুলা নেই বলেই নিজে নিজে কোনো ওষুধ বা ভিটামিন খাওয়া শুরু করা একদমই অনুচিত।
আদর্শ নখের সংজ্ঞা
একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত শরীরের লক্ষণ হলো- গোলাপি, শক্ত ও উজ্জ্বল নখ, যার গোড়ায় স্পষ্ট সাদা অর্ধচন্দ্র থাকবে। দুই হাত মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০টি নখে স্পষ্ট লুনুলা থাকা উচ্চ জীবনীশক্তির প্রতীক।
মূল কথা- নখ আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ সুস্বাস্থ্যের একটি প্রাথমিক নির্দেশক মাত্র, কোনো চূড়ান্ত ডায়াগনসিস টুল নয়। তাই নখের রঙ বা আকারে আকস্মিক ও স্থায়ী কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
