

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আধুনিক এই সময়ে ক্যারিয়ারের ধরন অনুযায়ী অনেককেই নাইট শিফটে বা রাতে কাজ করতে হয়। অনেক সময় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে অনলাইনে কাজের সময় এমনটা ঘটে। আবার কখনও উৎপাদনমুখি বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কিংবা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মেও রাতে কাজের প্রয়োজন হয়।
অনেকেই মনে করেন রাতের শিফটে কাজ করলে শুধু ঘুমের টাইম টেবিল নষ্ট হয়। নতুন একটি গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। রাতের শিফটে কাজ করা ব্যক্তিরা দিনের শিফটে কাজ করা কর্মীদের তুলনায় বেশি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে পড়ছেন।
এই গবেষণায় একটি আইটি কোম্পানির ৪৫ জন নাইট শিফট কর্মী এবং ৪৫ জন ডে শিফট কর্মীকে নিয়ে করা হয়। তাঁদের রক্তে শর্করা, হরমোন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নাইট শিফট কর্মীদের মধ্যে ৭৭% ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভুগছেন, যা ভবিষ্যতে টাইপ ২ ডায়াবিটিস-এর ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, ডে শিফট কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬২%। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নাইট শিফট কর্মীদের গড় বয়স কম (প্রায় ২৮ বছর) এবং তাঁদের শরীরের ওজনও তুলনামূলক কম। তবুও তাঁদের স্বাস্থ্য সূচক তুলনায় খারাপ। এই গবেষণা গান্ধী মেডিক্যাল কলেজ-এর চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং Indian Journal of Endocrinology and Metabolism-এ প্রকাশিত হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, নাইট শিফট কর্মীদের দেখে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও তাঁদের মেটাবলিক স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাঁদের শরীরে—
ট্রাইগ্লিসারাইড (ক্ষতিকর ফ্যাট) বেশি, ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কম, পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কম, মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন বেশি,ভিটামিন ডি-র অভাব রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির (সার্কাডিয়ান রিদম) ব্যাঘাত। এই ঘড়ি আমাদের ঘুম, হরমোন এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলাটোনিন শুধু ঘুমের হরমোন নয়, এটি শরীরের মেরামতির কাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রাতে কাজ করে দিনে ঘুমোলে মেলাটোনিনের মাত্রা কমে যায়, ফলে শরীরের শক্তি উৎপাদন এবং হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, নাইট শিফট কর্মীদের—গ্রোথ হরমোনের মাত্রা কম, থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বেশি (২২% বনাম ১১%)।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু ওজন বা কোমরের মাপ দেখে স্বাস্থ্য বিচার করা যথেষ্ট নয়। অনেক নাইট শিফট কর্মী দেখতে স্লিম ও তরুণ হলেও ভিতরে ভিতরে তাঁদের শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে কম টেস্টোস্টেরন বা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ভারতে এই বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তাঁরা সংস্থা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ দিয়েছেন, শুধু ওজন নয়— ঘুমের ধরন ও হরমোনের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। আইটি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, উৎপাদন এবং পরিবহন ক্ষেত্রে নাইট শিফট খুবই সাধারণ। তাই যাঁরা রাতের শিফটে কাজ করেন, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
