বুধবার
২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব খাবার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:২১ এএম
বিভিন্ন প্রকার খাবার ।। ছবি: সংগৃহীত
expand
বিভিন্ন প্রকার খাবার ।। ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যাভ্যাসই অনেক সময় নীরবভাবে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেসব খাবার গ্রহণ করি, তার কিছু অংশ দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও একটি নির্দিষ্ট খাবার সরাসরি ক্যান্সারের কারণ নয়, তবে অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) বিভিন্ন ধরনের খাবার ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ওপর গবেষণার ভিত্তিতে এমন সতর্কতা জানিয়েছে।

প্রক্রিয়াজাত মাংস:

সসেজ, বেকন, সালামি, হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে ব্যবহৃত সংরক্ষণকারী রাসায়নিক (যেমন নাইট্রেট ও নাইট্রাইট) শরীরে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করতে পারে। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার গ্রহণ শরীরের কোষের ডিএনএ-তে ক্ষতি করতে পারে।

লাল মাংস:

গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস অতিরিক্ত খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে এতে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইন (এইচসিএ) ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (পিএএইচ) নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়। এসব উপাদান দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ভাজা ও ফাস্টফুড:

অতিরিক্ত ভাজা খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার বা ডিপ ফ্রাইড খাবারে ট্রান্স ফ্যাট ও এক্রিলামাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। এই উপাদানগুলো শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পুনরায় ব্যবহৃত তেল:

একই তেল বারবার ব্যবহার করে রান্না করলে এতে বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। এই তেলে রান্না করা খাবার খেলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে, যা কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও সংরক্ষিত খাবার:

আচার, লবণ দিয়ে সংরক্ষিত মাছ বা প্রসেসড নোনতা খাবার বেশি খেলে পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের খাবার গ্রহণ পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়।

অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার:

মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, কেক, পেস্ট্রি বা বেশি চর্বিযুক্ত খাবার স্থূলতা বাড়ায়। স্থূলতা আবার বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের (স্তন, লিভার ও কোলন) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত।

উচ্চ তাপে পোড়া বা ঝলসানো খাবার:

গ্রিল বা বারবিকিউতে অতিরিক্ত পোড়া অংশসহ খাবারে পিএএইচ ও এইচসিএ নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়। এসব উপাদান শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।

কী করবেন:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঝুঁকি এড়াতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখলে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম ও সচেতন জীবনযাপন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Colombia VS Congo DR
Scheduled
24 Jun, 08:00 AM
VS
World Cup