

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর বনানীতে বহুতল ভবন নির্মাণ ও ফাইভ স্টার হোটেল ‘শেরাটন’ পরিচালনার আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর জমি ব্যবহার করে নির্মিত এই প্রকল্পে সরকারি চুক্তি লঙ্ঘন, অনুমোদনহীন অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং অবৈধভাবে অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বনানী থানায় (মামলা নং-১১) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং প্রকল্পে ডিএনসিসিকে তার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৪ তলা ভবন নির্মাণের প্রাথমিক চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই সেখানে ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। এই অনুমোদনহীন ভবনে ফাইভ স্টার হোটেল ‘শেরাটন’ পরিচালনা করে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করেছেন। এই বিশাল অংকের অর্থ বিভিন্ন সময়ে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে সিআইডি তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে।
অনুসন্ধানে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, এই বিশালাকার ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রয়োজনীয় কোনো অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত উচ্চতায় ভবনটি নির্মিত হওয়ায়, তা রাজধানীর আকাশসীমায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে বড় ধরনের ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে ও সিটি কর্পোরেশনকে তাদের প্রাপ্য শেয়ার বুঝিয়ে না দিয়ে নূর আলী প্রভাব খাটিয়ে বারবার চুক্তি সংশোধন করিয়ে নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ বর্তমানে মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে ১১৫ কোটি টাকার তথ্য পাওয়া গেলেও, বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচন ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সিআইডি।
