

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমানে চুল ঝরার সমস্যা খুব সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানসিক চাপ, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের ওঠানামা, সন্তান জন্মের পরের সময়কাল কিংবা অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহারের মতো নানা কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে ঘরে বসে কিছু নিয়মিত যত্ন নিলে চুল পড়া অনেকটাই কমানো যায়।
১. পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। যেভাবে ব্যবহার করবেন: একটি পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে রস ছেঁকে নিন। সেই রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই-তিনবার করলে উপকার পাবেন।
২. নারকেল তেল ও লেবুর রস
নারকেল তেল চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয় আর লেবুর রস খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। ব্যবহারের নিয়ম: ২ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
৩. মেথি বীজ
মেথি বীজে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল পড়া রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। ব্যবহারবিধি: এক মুঠো মেথি বীজ সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পেস্ট বানিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। ৩০-৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
৪. অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা মাথার ত্বক ঠান্ডা রাখে, খুশকি কমায় এবং চুল শক্তিশালী করে। পদ্ধতি: তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মাথার ত্বকে লাগান। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
৫. আমলকী (আমলা)
আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুল পড়া রোধ করে এবং চুল ঘন করতে সাহায্য করে। যেভাবে ব্যবহার করবেন: শুকনো আমলকী গুঁড়া নারকেল তেলের সঙ্গে গরম করে নিন, ঠান্ডা হলে স্ক্যাল্পে লাগান।
৬. ডিম ও অলিভ অয়েল হেয়ার মাস্ক
ডিমে থাকা প্রোটিন ও বায়োটিন চুলকে ভেতর থেকে মজবুত করে। পদ্ধতি: ১টি ডিমের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
অতিরিক্ত যত্নের টিপস
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
ভিটামিন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।
অযথা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
হঠাৎ করে কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার বন্ধ করুন।
নিয়মিত চুলে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন।
এই ঘরোয়া উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে চুল পড়া কমে আসবে। তবে যদি অস্বাভাবিক হারে চুল ঝরে যায় বা মাথার নির্দিষ্ট অংশ টাক হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মন্তব্য করুন
