

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাতে নাক ডাকা অনেকের কাছেই একটি সাধারণ বা নিরীহ সমস্যা বলে মনে হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু ক্লান্তি বা গভীর ঘুমের ফল নয়; বরং শ্বাসযন্ত্রজনিত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
দীর্ঘদিনের নাক ডাকা ঘুমের মান নষ্ট করার পাশাপাশি রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমাগত জোরে নাক ডাকা অনেক সময় ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ রোগের লক্ষণ হতে । এ অবস্থায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার শুরু হয়, যার ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং সারাদিনের ক্লান্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ঘুমের সময় নাক ও গলার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হলে আশপাশের টিস্যুতে কম্পন সৃষ্টি হয়, যার ফলেই নাক ডাকা হয়। নাক বন্ধ থাকা, টনসিল বড় হয়ে যাওয়া, জিহ্বা অতিরিক্ত শিথিল হওয়া বা ঘাড়ের চারপাশে অতিরিক্ত নরম টিস্যু জমে যাওয়ার কারণে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, নাক ডাকা উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন এর সঙ্গে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁপিয়ে ওঠা, সকালে মাথাব্যথা, মুখ শুষ্ক থাকা কিংবা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ভাব যুক্ত হয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা নাক ডাকার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু অভ্যাসগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন—
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে ঘাড়ের চারপাশে চর্বি জমলে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়। সামান্য ওজন কমলেও নাক ডাকার তীব্রতা কমতে পারে।
ঘুমের ভঙ্গি: চিৎ হয়ে ঘুমালে জিহ্বা পেছনের দিকে ঢলে পড়ে শ্বাসনালী বন্ধ করতে পারে। পাশ ফিরে ঘুমালে শ্বাস চলাচল সহজ হয়।
নিয়মিত ঘুমের রুটিন: অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুম গলার পেশী অতিরিক্ত শিথিল করে, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়।
নাকের সমস্যা সমাধান: নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়, যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ। এসব সমস্যার চিকিৎসা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ও জোরে নাক ডাকাকে অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব। নাক ডাকা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা চিকিৎসকের নজরে আনা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
