

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘোরা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অকারণে দুশ্চিন্তা করা কিংবা ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও অস্বাভাবিক সময় নেওয়া—এগুলোকে আমরা প্রায়ই ওভারথিংকিং বলে থাকি। আধুনিক জীবনের চাপে এই প্রবণতা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ওভারথিংকিং কি আসলেই একটি মানসিক রোগ, নাকি এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খায় অনেকের মনে।
ওভারথিংকিং আসলে কী?
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, ওভারথিংকিং কোনো আলাদা রোগ নয়। এটি একটি মানসিক প্রবণতা বা আচরণগত প্যাটার্ন, যেখানে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চিন্তা করে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা একে অনেক সময় রুমিনেশন (একই চিন্তা ঘুরেফিরে আসা) বা এক্সেসিভ ওরি (অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
তাহলে কেন এমন হয়? গবেষণায় দেখা গেছে, ওভারথিংকিংয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি। যখন মস্তিষ্ক সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকে, তখন সম্ভাব্য বিপদ এড়ানোর চেষ্টা করে বারবার ভাবনার মাধ্যমে। এই কারণে ওভারথিংকিংকে অনেক সময় অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার, ডিপ্রেশন বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।
ওভারথিংকিং আর রোগের পার্থক্য কোথায়?
ওভারথিংকিং নিজে রোগ না হলেও, এটি যদি ঘুম নষ্ট করে, কাজের মনোযোগ কমিয়ে দেয়, সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সব সময় অপরাধবোধ বা ভয় তৈরি করে - তাহলে সেটি মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সতর্ক সংকেত হতে পারে। এ অবস্থায় পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।
মস্তিষ্কে কী ঘটে?
নিউরোসায়েন্স বলছে, অতিরিক্ত চিন্তার সময় মস্তিষ্কের থ্রেট ডিটেকশন সিস্টেম বেশি সক্রিয় থাকে। ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম নিতে পারে না। এই অবস্থায় মানুষ বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে একই চিন্তার চক্রে আটকে যায়।
কীভাবে সামলানো যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারথিংকিং কমাতে প্রয়োজন -
>> নিয়মিত বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুম
>> চিন্তা লিখে ফেলা বা জার্নালিং
ওভারথিংকিং কি রোগ? নাকি শুধুই মানসিক চাপ
>> মাইন্ডফুলনেস ও শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চা
>> প্রয়োজন হলে থেরাপি বা কাউন্সেলিং
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - নিজেকে দোষ না দিয়ে বোঝা যে, এটি অনেক সময় মনের ক্লান্তির স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
ওভারথিংকিং কোনো রোগ নয়, কিন্তু এটি উপেক্ষা করার মতো বিষয়ও নয়। এটি অনেক সময় শরীর ও মনের চাপের ভাষা। সময়মতো সচেতন হলে এবং সহায়তা নিলে এই চিন্তার চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, জার্নাল অব অ্যানজাইটি ডিজঅর্ডারস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি রিভিউ।
মন্তব্য করুন

