

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার। শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেওয়া, হজম ও বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক রাখা—সব ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত চিনি ও ফাস্টফুড গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতির কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই শরীরে গড়ে উঠছে।
স্বস্তির বিষয় হলো খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা আনলে এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি, যিনি এআইআইএমএস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তার মতে, সঠিক খাবার লিভারের চর্বি কমাতে সহায়ক হলেও ভুল খাদ্যাভ্যাস নীরবে ক্ষতি বাড়ায়।
তেল বাছাইয়ে সতর্কতা
উপকারী তেল: অলিভ অয়েলে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়তা করে।
ক্ষতিকর তেল: বারবার গরম করা সয়াবিন, সূর্যমুখী বা অন্যান্য বীজজাত তেলে উচ্চ তাপে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়, যা লিভারে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে।
স্ন্যাকসের ক্ষেত্রে কী খাবেন
ভালো বিকল্প: বাদাম ও বীজ—যেমন আমন্ড, আখরোট, চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্সসিড—স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবারের ভালো উৎস। এগুলো লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার। যেসব পণ্যে দীর্ঘ উপাদান তালিকা থাকে, সেগুলোতে সাধারণত বেশি চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর ফ্যাট থাকে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কার্বোহাইড্রেটের সঠিক নির্বাচন
উপকারী কার্বোহাইড্রেট: ওটস, বার্লি, মিলেট ও অন্যান্য সম্পূর্ণ শস্য রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়।
ক্ষতিকর কার্বোহাইড্রেট: ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার যেমন সাদা পাউরুটি, কেক বা পেস্ট্রি দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে।
ফ্যাটি লিভার এখন আর বিরল কোনো সমস্যা নয়, তবে সময়মতো সচেতন না হলে এটি গুরুতর আকার নিতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই লিভারকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই প্রতিদিনের খাবার বাছাইয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
মন্তব্য করুন

