

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জামায়াতপন্থী কিছু আইনজীবীর হাতে তিন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে ওই তিন সাংবাদিককে আদালতে তলব করে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন।
পরে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার শর্তে সাংবাদিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যু মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন আদালতে হাজির হন ফারদিনের বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরা এবং তার বাবা নুর উদ্দিন রানা। বুশরা আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের তিন কর্মী—কালের কণ্ঠের মাসুদ রানা, একুশে টিভির আরিফুল ইসলাম ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের আরিফুল ইসলাম—ভিডিও ধারণ করতে যান।
এসময় জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতির সদস্য রেজাউল হক রিয়াজ এবং হাতিরঝিল থানা জামায়াতের রোকন হিসেবে পরিচিত আইনজীবী আক্তারুজ্জামান ডালিমসহ কয়েকজন ভিডিও ধারণে বাধা দেন। সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্বের কথা জানালে তাদের প্রতি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ওই আইনজীবীরা।
এক পর্যায়ে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বিচারকের সামনে নিয়ে যাওয়ার দাবি তোলে এবং জোর করে আদালতের সামনে ঘেরাও করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আক্তারুজ্জামান ডালিম এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং মামলার বাদী নুর উদ্দিন রানাকেও হুমকি দেন।
এরপর ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস আদালতে তিন সাংবাদিককে ডেকে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। এসময় রেজাউল হক রিয়াজ ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। সাংবাদিকদের পরিচয় জানার পর বিচারক বলেন, “আপনারা আদালতের পরিবেশ নষ্ট করেছেন, এখন আপনাদের কারাগারে পাঠানো হবে।
কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, আপনারা নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে ছেড়ে দেওয়া হবে, নইলে জেলে যেতে হবে। পরে সাংবাদিকরা ক্ষমা চাইলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মাসুদ রানা বলেন, আমরা কেবল ভিডিও নিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কয়েকজন আইনজীবী আমাদের বাধা দেয় এবং বিচারকের কাছে নিয়ে যায়। বিচারক আমাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন, সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। পরে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, “ভিডিও ধারণে বাধা দিলে একজন আইনজীবী আমার ফোন কেড়ে নেয়। আমাদের বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলা হয় এবং জোর করে বিচারকের সামনে দাঁড় করানো হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই হুমকি দেওয়া হয়।”
আইনজীবী আক্তারুজ্জামান ডালিম বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছিল, পরে বিচারক ডেকে মীমাংসা করেন। রেজাউল হক রিয়াজ জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।
ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লিটন মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এমন আচরণ দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন, আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কোনো আচরণ করেননি।
তিনি আরও বলেন, বিচারক হাসিব উল্লাহ পিয়াসের অতিউৎসাহী মনোভাব অগ্রহণযোগ্য। আমরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে
মন্তব্য করুন
