

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দশ বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শারমিনকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে দুলাল হোসেন ওরফে দুলুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের আদেশে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদায় এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুলালের ভাই হারুন, ভাবী মোরশেনা, বোন সুমাইয়া ও বোন জামাই রাজুকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর আসামি দুলালের মা জরিনা বেগম বিচার চলাকালে মারা যান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালে দুলালের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়।
২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে শারমিনকে মারধরের পর তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শারমিনের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার মা মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারকালে আদালত নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে রোববার দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।

