রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতে বারবার প্রস্রাবের কারণ কী? যে উপায়ে মুক্তি পাবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে শৌচাগারে যাওয়ার ঝামেলার কারণে সকালে ক্লান্তিবোধ করা- এমন অভিজ্ঞতা বয়স্ক অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু লজ্জার কারণে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না, এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা চিন্তাও করেন না। অথচ এটি একটি সুনির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘নকটারিয়া’

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল কন্টিনেন্স সোসাইটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, রাতে ঘুম ভাঙার পর যদি কাউকে অন্তত দুবার প্রস্রাবের জন্য বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়, তবে তিনি নকটারিয়ায় আক্রান্ত।

বয়স্কদের মধ্যে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যেমন- ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই এ সমস্যায় ভোগেন। তবে গর্ভবতী নারীসহ যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

যে কারণে নকটারিয়া দেখা দেয়

নকটারিয়া মূলত দুটি প্রধান কারণে হয়ে থাকে- মূত্রথলির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া এবং রাতে অতিরিক্ত মূত্র উৎপাদন হওয়া (পলিইউরিয়া)।

মূত্রথলির ধারণক্ষমতা হ্রাস: মানুষের স্বাভাবিক মূত্রথলির ধারণক্ষমতা ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার। বয়সজনিত কারণে পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হওয়া (বেনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারট্রফি) কিংবা নারীদের স্থূলতা ও পেলভিক অরগ্যান প্রোল্যাপসের মতো সমস্যার কারণে এই ধারণক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া ওভারঅ্যাকটিভ ব্ল্যাডার সিনড্রোম বা মূত্রনালীর সংক্রমণের মতো স্বাস্থ্য সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

অতিরিক্ত মূত্র উৎপাদন (পলিইউরিয়া): সাধারণত রাতে আমাদের শরীরে অ্যান্টি-ডিউরেটিক হরমোনের প্রভাবে মূত্র উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই হরমোনের নিঃসরণ হ্রাস পায়।

এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, টিস্যুতে পানি জমার মতো সমস্যা এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন, অ্যালকোহল বা তামাক গ্রহণের কারণেও রাতে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যেতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, ডাইরেটিকস, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিকলিনার্জিকস কিংবা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত লিথিয়ামের মতো ওষুধ অনেক সময় অ্যান্টি-ডিউরেটিক হরমোনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় বা মূত্রথলিতে চাপ সৃষ্টি করে। তবে এই উপসর্গের ভয়ে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রতিকার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

নকটারিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো একক উপায় নেই, কারণ এর পেছনের কারণগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে দারুণ সুফল পাওয়া সম্ভব। ঘুমানোর চার থেকে ছয় ঘণ্টা আগে তরল খাবার বা পানি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন এবং সন্ধ্যা বা রাতের বেলা অ্যালকোহল, ক্যাফেইন ও ধূমপান পুরোপুরি পরিহার করুন। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমিয়ে ফেলুন এবং শোওয়ার আগে অবশ্যই মূত্রত্যাগ করে নিন।

পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ বা তলপেটের মাংসপেশির ব্যায়াম নিয়মিত করলে প্রস্রাবের বেগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। পায়ে পানি জমে ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে রাত নামার আগেই পা কিছুটা বিশ্রাম দিন।

ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো মূল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো থাকলে তার সঠিক চিকিৎসা করান। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিয়মিত সেবন করা ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা বিকল্প ওষুধের ব্যবস্থা করতে পারেন।

নকটারিয়া কেবল রাতের ঘুমকেই ব্যাহত করে না, বরং দৈনন্দিন জীবনমানের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এটি নিয়ে সংকোচ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসকরা রোগীর জীবনযাপন, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা করে এর টেকসই সমাধান দিতে পারেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank