শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় লাশ পোড়ানোর মামলা: ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৩ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আজ (মঙ্গলবার) সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন।

প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।

গতকাল সোমবার এ মামলায় সাক্ষ্য দেন এএসপি এনায়েত হোসেন ও শহীদ বায়োজিদ বোস্তামীর ভাই কারিমুল ইসলাম। পরে আসামিপক্ষ ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা তাঁদের জেরা করেন। এখন পর্যন্ত মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার ও সাইমুম রেজা তালুকদার।

এর আগে ১৬ অক্টোবর ১৬তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের আলোকচিত্র বিশেষজ্ঞ ওমর ফারুক খান।

এরও আগে, ১৫ অক্টোবর মামলার ১১তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

গত ৯ অক্টোবর ১০ম দিনে শহীদ ওমর ফারুকের বাবা চান মিয়া জবানবন্দি দেন। তিনি ১৪তম সাক্ষী হিসেবে গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার বিবরণ আদালতে তুলে ধরেন।

এ মামলার নবম দিনের শুনানিতে (৮ অক্টোবর) সাক্ষ্য দেন এএসআই মনিরুল ইসলাম, যিনি জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে বিবৃতি দেন। তার আগে ৭ অক্টোবর কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম সেই দিনের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।

সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে একাত্তর টিভির স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম অনিকের জেরা শেষ হয়, যিনি নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত ওই নির্মম হত্যাকাণ্ড ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।

এর আগে ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

গ্রেফতার আটজনের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল এবং কনস্টেবল মুকুল। অন্যদিকে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আরও আটজন এখনও পলাতক।

গত ২ জুলাই প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেখানে ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ৩১৩ পৃষ্ঠার বর্ণনামূলক তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পোড়ানো হয়। ওই সময় এক তরুণ জীবিত থাকলেও তাকেও পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন