

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বর থেকে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো: সোহাগ খান (৩৬) ও মো: নাজমুল হাসান (১৯)।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা জেলার কোর্ট ইন্সপেক্টর কামাল উদ্দীন জানান, শনিবার বিকেলে সাভার মডেল থানার একটি মামলায় অভিযুক্ত আসামি মো: ইউসুফকে (৩৮) চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাকে জেলখানায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রিজন ভ্যানে তোলার মুহূর্তেই অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয় ব্যক্তি জোরপূর্বক আসামি ইউসুফকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তৎক্ষণাৎ বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় আসামিপক্ষের হামলায় এটিএসআই হানিফ মাহমুদ ও কনস্টেবল তোফায়েল আহম্মেদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারধর ও কিল-ঘুষি মারে, এমনকি এক কর্মকর্তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন করে।
হামলা ও ধ্বস্তাধ্বস্তির মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই সোহাগ খান ও নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অপর এক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন পালিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল হাসান পালিয়ে যাওয়া আসামিদের তথ্য সরবরাহ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিজেএম আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পালিয়ে যাওয়া অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


