

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে প্রায় ৩০ বছর আগে সংঘটিত আকতার হোসেন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইদুর রহমান জানান, খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন জাকির হোসেন ওরফে মোতাবেক ওরফে নাসির, আশরাফ আলী, মালু ও রফিক। তাঁদের মধ্যে আশরাফ আলী ও মালু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, আসামিদের কারও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই। তাঁদের কাছ থেকে মামলার কোনো আলামতও উদ্ধার করা হয়নি। সার্বিক পর্যালোচনায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাঁদের খালাস দেওয়া হলো।
মামলার নথি অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে ১৯৯৬ সালের ৫ মে রাত ৮টার দিকে আকতার হোসেনকে ডেকে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরের একটি ইটভাটা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, রফিক তাঁর হাত-পা বেঁধে রাখেন এবং জাকির ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান।
পরে আকতারকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাবুল মিয়া ১৯৯৬ সালের ১৪ মে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন লালবাগ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির উল্লাহ।
২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।