

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১১৩ জন আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ।
তাদের অভিযোগ, পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বদলে রাজনৈতিক পরিচয়, আর্থিক লেনদেন ও বিশেষ সুবিধার ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের পেছনে অ্যাটর্নি জেনারেলের হাত রয়েছে অভিযোগ করে তার পদত্যাগের দাবিও করেন তারা।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে আইনজীবীরা এসব অভিযোগ করেন।
তারা দাবি করেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার মধ্যে ৩০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৮৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তারা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের হয়ে মামলা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনা করা উচিত ছিল। এবার সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
তারা বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত আইনজীবীদের নিয়োগের দাবি জানান। একই সঙ্গ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান।
সমাবেশ চলাকালে আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। দাবি আদায়ে ৬ আগস্ট লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তাদের অভিযোগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং অতীতে জেল-জুলুমের শিকার অনেক আইনজীবীকে বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করা হয়।
একই সঙ্গে নতুন করে ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন নিয়োগের পর ২ ও ৩ আগস্ট প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ।
মঙ্গলবারের সমাবেশ ছিল তাদের সেই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ। এতে আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজি, আইনজীবী এএম শওকাতুল হক, আইয়ূব আলী আশরাফী, রেজাউল করিম, শাহরিয়ার কাকন, রাশিদা আলিম ঐশী, শাহিনা সুলতানা, আনোয়ারা শিখা, সারোয়ার আকম খান, অহিদুল ইসলাম অপু, আমিরুল ইসলাম শানু, সাবিনা ইয়াসমিন লিপি, আবদুল্লাহ আল বাকী, মাসুদ রানা, এবিএম ইব্রাহীম খলিল, কোহিনুর পাপড়ি, হাবিবুর রহমান, আনিসুর রহমান খান ও আবদুস সামাদ প্রমুখ।


