

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু অন্যান্য আসামিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সঙ্গে সম্ভবত আর দেখা হবে না। আমার মামলা ট্রাইব্যুনাল-২ এ চলে গেছে।”
এমন সময় সাহস জোগালেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না ভাই। আল্লাহ ভরসা। বুকে বল রাখুন, মনোবল হারাবেন না।”
এর মধ্যে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান মন্তব্য করেন, “এভাবে ওঠানো-নামানোর নাটক কবে শেষ হবে?”
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাসে এমন দৃশ্য দেখা যায়। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় ১৬ জনকে আদালতে হাজির করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।
কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আনা হয়। এজলাসে বসেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তার পাশে আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। মাঝের সারিতে বসেন ডা. দীপু মনি, তার ঠিক পেছনে ছিলেন ইনু। পাশে বসেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
মামলার নতুন তারিখ নির্ধারণের পর দুপুরে হাজতখানায় ফেরত নেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থাকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুই মাসের সময় দেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৮ ডিসেম্বর।
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
এর আগে ২০ জুলাই মামলার তদন্তে আরও সময় চেয়ে আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। আদালত তিন মাস সময় মঞ্জুর করেন। প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সময় পুনরায় বাড়িয়ে আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত শেষের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন এবং প্রবেশের সময় প্রত্যেককে তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন