

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) দশম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে আজকের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। সে সময় পুলিশের দুই উপপরিদর্শক—এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল—জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
এরপর পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদার ও সুলতান মাহমুদ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ২২ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনের শুনানিতে ছয় নম্বর সাক্ষী সিয়াম আহসান আয়ানকে জেরা করা হয়—তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া প্রথম ব্যক্তি ছিলেন।
১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের লাইব্রেরিয়ান আনিসুর রহমানকে জেরা করা হয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। একই দিনে এসআই তরিকুল ইসলামও জবানবন্দি দেন।
এছাড়া ৮ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলামকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তার আগের দিন ৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একেএম মঈনুল হক সাক্ষ্য দেন।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে ২৮ আগস্ট শুরু হয় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া। ওই দিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।
এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার ছয়জন আসামি হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
গত ২৭ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তার আগে ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন।
মামলার ২৪ আসামি এখনো পলাতক, যাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে ২২ জুলাই চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
৩০ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী শুনানি করেন। এর মধ্যে পাঁচজনের পক্ষে লড়েন আইনজীবী সুজাত মিয়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার পক্ষে ছিলেন মামুনুর রশীদ। এছাড়া ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলামও যুক্ত ছিলেন শুনানিতে।
২৯ জুলাই তিনজন আসামির পক্ষে শুনানি হয়—শরিফুলের পক্ষে আমিনুল গণি টিটো, কনস্টেবল সুজনের পক্ষে আজিজুর রহমান দুলু এবং ইমরানের পক্ষে সালাহউদ্দিন রিগ্যান যুক্ত ছিলেন।
এর আগে ২৮ জুলাই ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ করে এবং ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।
মন্তব্য করুন
