

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় রয়েছেন বহুল পরিচিত ছাত্রলীগ নেত্রী বেনজির হোসেন নিশি। তার নামে ফেসবুকে একাধিক আইডি, পেজ ও গ্রুপ থেকে নিয়মিতভাবে অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি–জামায়াত ও এনসিপি বিরোধী পোস্ট প্রচার হচ্ছে। সূত্র মতে, এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিদিন শতাধিক রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশিত হয়।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারির গভীর রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার হন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কলাবাগান থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে দেখানো হয় গ্রেপ্তার হিসেবে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে একাধিক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সর্বশেষ ১৩ আগস্ট ঢাকার নিম্ন আদালতে তাকে হাজির করা হয়। সেই সময়ও পুলিশ পাহারায় হেলমেট ও জ্যাকেট পরা অবস্থায় তাকে দৃঢ় মনোভাবে কথা বলতে দেখা যায়।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি আদালতে ওঠার সময় লিফটের সামনে তিনি স্লোগান দেন, “শেখ হাসিনা আসবে, জয় বাংলা! আমাকে একা গ্রেপ্তার করতে পারে, বাকিদের কী করবে?”—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে সংগঠনের অভ্যন্তরে দাপট দেখিয়ে আসছিলেন বেনজির হোসেন নিশি ও তার অনুসারীরা। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে হলে সিট-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মতো নানা কর্মকাণ্ড চালানো হতো। জুলাই মাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গরম পানি নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গেও তার নাম জড়ায়। তখন তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, ৭ মিনিটেই ঢাকা খালি করে ফেলব।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হঠাৎই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন একসময়ের প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেত্রীদের অনেকে। কেউ আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে, আবার কেউ বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেছেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভারত প্রস্থানের পর সংগঠনটি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে।
এই সময়েও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি, যিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার প্রভাব বেড়ে যায় বহুগুণে। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের অর্থনৈতিক অনিয়ম, কমিটি বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির টাকাপ্রবাহের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি।
তার প্রভাব এতটাই ছিল যে, বঙ্গমাতা হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন ও গালাগাল। এমনকি নিজের দলের কর্মীরাও তার রোষ থেকে রেহাই পাননি।
সাতক্ষীরা জেলার প্রভাবশালী রাজনীতিক, সাবেক এমপি ও শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, এর ঘনিষ্ঠতার সুবাদে নিশি তৃণমূল পর্যায়েও প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে সহকর্মীদের পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতা ইয়াসিনকে মারধরের ঘটনাতেও তার নাম উঠে আসে।
এছাড়া রোকেয়া হলের নেত্রী ফাল্গুনী দাস তন্বী-র ওপর হামলার অভিযোগেও তিনি আলোচনায় আসেন। তন্বী ওই ঘটনায় মামলা করলে সেটি এখনো বিচারাধীন।
বর্তমানে কারাগারে থাকলেও বেনজির হোসেন নিশির নামে থাকা একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে নিয়মিত পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। এসব পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা, বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি বিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষণও দেখা যায়।
সম্প্রতি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক সাক্ষাৎকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে তারেকের প্রতি একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়।
এর আগে ৫ অক্টোবর তার এক পোস্টে লেখা ছিল, দিন যত যাচ্ছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে।
একই দিনে তিনি আরও একটি স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, জয় বাংলার বিজয়ের হাসি, আমরাই হাসব।
গ্রেপ্তারের আগেও তিনি নিজের ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে আইনজীবী ও শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, হায় আল্লাহ, আমি যদি কোনোদিন প্রেমিক হতাম! মেয়েদের হৃদয় জয়ের জন্য জীবন দিয়ে প্রেম করতাম।
মন্তব্য করুন
