শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি আ. লীগের কাছেও নিরাপদ না, বিএনপির কাছেও না: হিরো আলম

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৭ এএম
হিরো আলম
expand
হিরো আলম

আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কারো কাছে নিরাপদ নন বলে জানিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম।

তিনি বলেন,'আওয়ামী লীগের সময় তিনবার মার খেয়েছি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর একবার মার খেয়েছি। আমি আওয়ামী লীগের কাছেও নিরাপদ না, বিএনপির কাছেও নিরাপদ না।'

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান হিরো আলম।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ৫ অক্টোবর বাড্ডা থানায় মামলা করেন তিনি। মঙ্গলবার রাত ১২ টা ২০ মিনিটের খিলক্ষেতের ডুমনী বাজার থেকে কামরুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে ম্যাক্স অভিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিকে গ্রেপ্তারে খবরে বুধবার আদালতে আসেন হিরো আলম। হামলার বিষয় নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে।

হিরো আলম বলেন,'আমি সন্ধ্যায় আফতাবনগরে ঘুরতে যাই। কিছুক্ষণ পর তিনটা মোটরসাইকেল এসে আমাকে আটকিয়ে কাশবনের ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে অজ্ঞান করে রেখে যায়।

আশেপাশের মানুষ এসে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন মিথিলা নামে একজন মেয়ে, তার স্বামী, ভাই ও অভিসহ আরো কয়েকজন আমার উপর হামলা করে।'

তিনি বলেন,'প্রথমে যখন আমাকে মারা হয়, তখন আসামিরা বলে, তোর তো কলিজা অনেক বড়। তোর অনেক সাহস।

তুই নাকি ঢাকা থেকে সামনে নির্বাচন করবি? এ বলে আমাকে কানে মুখে থাপ্পড় মারে। সাদা কালারের হুন্ডাতে ছিলো অভি। সে বলে, বড় ভাই সে আমার অনেক ক্ষতি করেছে।'

হিরো আলম বলেন,'মিথিলার সঙ্গে আমার একসময় সম্পর্ক ছিলো। তার সঙ্গে ব্রেকআপ হয়ে যাওয়ার পর সে বলে, আমি যদি তোকে না পায়, তোকে কেউ পাবে না।

এরপর বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেনন্থা করে। পরে সে ম্যাক্স অভির সঙ্গে পরিকল্পনা করে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। তার জামাই বলেছে, আলম মিথিলাতেই শেষ।'

নির্বাচন করতে চান না জানিয়ে বলেন,:আমি দল গঠন করে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশের বর্তমানে রাজনীতির যে অবস্থা, আমার আর রাজনীতি করার ইচ্ছে নেই।

আমি আর নির্বাচনও করতে চাই না। দলও করতে চাই না। যে দেশের মানুষের জন্য এতো কিছু করলাম। তারাই আমারে মারে। এদেশের মানুষের কিছু হবে না। দেখেন, আদালতের মতো জায়গায় আমি মাইর খাইছি। কার জন্য আমি লড়বো? আওয়ামী লীগের সময় তিনবার মার খেয়েছি।

আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর একবার মার খেয়েছি। আমি আওয়ামী লীগের কাছেও নিরাপদ না, বিএনপির কাছেও নিরাপদ না।'

এদিকে অভিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া খান। আসামি পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জাকির হোসেন এ তথ্য জানান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় মেইনরোড দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ৬ জন লোক তিনটি মোটরসাইকেলে এসে তার পথরোধ করেন।

জোর করে তারা তাকে পাশের কাশবনে নিয়ে যায় এবং কামরুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে ম্যাক্স অভির হাতে থাকা কাঠের লাঠি দ্বারা মাথায় আঘাত করে। বাম হাত দিয়ে আঘাতটি ফেরাতে গেলে গুরুতর জখম হন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা হাতে থাকা লোহার ধারালো স্কেল দিয়ে তাকে আঘাত করে। আঘাতটি তার ডান হাতের কনুইয়ে লাগে। এতে গুরুতর রক্তাক্ত হন।

পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা আসামিরা হাতের লাঠি দ্বারা তার মাথায় আঘাত করলে আঘাতটি কপালের বাম দিকে লাগে। পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তখন আসামিরা তার সারা শরীরে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি ও চড় থাপ্পড় মেরে জখম করে। ম্যাক্স অভি তার হনোর ব্রান্ডের একটি মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে। যাওয়ার সময় আসামিরা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে আশেপাশের মানুষের সহযোগিতায় হাসপাতালে যান তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন