

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এমন একটি অডিও বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা এদিন জবানবন্দি দেন।
শুনানিতে তিনি জানান, আন্দোলনকালীন সময়ে সংঘটিত সহিংসতার প্রমাণ হিসেবে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে।
ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, লিথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিটিআরসি ও বিটিভি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
তখন শেখ ফজলে নূর তাপস তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং জানান, রাতের বেলায় আরও আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় শেখ হাসিনা বিভিন্ন স্থানের নাম জানতে চাইলে বনানী-গুলশান এলাকার কথা উল্লেখ করেন তাপস।
শুনানির পর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ফোনালাপে আগুন দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তার ভাষায়, ‘তিনি বলেছেন, আমি বললাম একটা জিনিস পোড়াতে, যা যা পোড়াতে। ওরা সেতু ভবন পুড়িয়ে দিলো। অর্থাৎ তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও কাঙ্ক্ষিত জায়গা নয়, ভিন্ন স্থাপনা পুড়েছে।’
সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ। এ ছাড়া সকালে রাজসাক্ষী হওয়া আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আদালতে আনা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষীরা জবানবন্দি প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন