

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে অনুষ্ঠিত ছয়টি সরকারি ব্যাংকের ‘অফিসার ক্যাশ’ (জব আইডি: ১০২২২) পদের সম্মিলিত নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে অনিক সাহা নামে এক প্রার্থীকে ২১ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে তাকে ভবিষ্যতে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সেক্রেটারিয়েট (বিএসসিএস) পরিচালিত সকল পরীক্ষায় স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ বা কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ৬টি সরকারি ব্যাংকের 'অফিসার ক্যাশ' এর লিখিত পরীক্ষা।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অনিক সাহা, পিতা: রনজিত সাহা মোবাইল ফোনসহ দায়িত্বরত পরিদর্শকের হাতে ধরা পড়েন। অনিক সাহা কেন্দ্রের কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে লুকিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করেন। পরীক্ষার এক পর্যায়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তিনি বাইরে অবস্থানরত এক ব্যক্তির কাছে পাঠান এবং ফিরতি মেসেজে আসা উত্তর দেখে খাতায় লিখছিলেন।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে অনিক সাহার মোবাইল উদ্ধার করে দেখা যায়, প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত মেসেজ।
ঘটনার পরপরই রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী নিজের অপরাধ স্বীকার করলে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী তাকে ১০০ টাকা জরিমানা ও ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত মোবাইল ফোনটি কারামুক্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে বুঝে নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সেক্রেটারিয়েট (বিএসসিএস) জানিয়েছে, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ও স্বয়ংক্রিয়। প্রত্যেক আবেদনকারীর একটি স্থায়ী ব্যক্তিগত সিভি থাকে। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় অনিক সাহাকে সিস্টেমে স্থায়ীভাবে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংক, এসপিসিবিএল-সহ বিএসসিএস-এর আওতাভুক্ত ১৪টি সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। প্রবেশপত্রের নির্দেশনা (ধারা-৩) অনুযায়ী কেন্দ্রে যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন, নিয়োগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
মন্তব্য করুন
