শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনো মেগাপ্যাড এসই স্টাইল ও পারফরমেন্স এখন এক বাজেটেই

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পিএম
টেকনো মেগাপ্যাড এসই স্টাইল
expand
টেকনো মেগাপ্যাড এসই স্টাইল

শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী সবার প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি এই ট্যাবলেটটি একদিকে যেমন স্টাইলিশ, তেমনি বাজেটফ্রেন্ডলি বাংলাদেশে টেকনো মেগাপ্যাড এসই লঞ্চের খবর শুনে আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছিল। এটাই কি সেই ট্যাবলেট, যেটা মান আর সাশ্রয়ী দাম দুটোই একসাথে দেয়? আগেই বলি, উত্তরটা হ্যাঁ!

আমরা সবাই ঢাকার ব্যস্ত জীবনের সাথে পরিচিত। কোন না কোন কাজ নিয়ে আমরা সবসময় ব্যস্ত থাকি। অফিসের মিটিং থেকে শুরু করে ক্লাসরুম এমনকি লাঞ্চ বিরতিতেও কাজে ছাড় নেই। এতসব দায়িত্বের মাঝে অল্প সময়ের বিনোদন সত্যিই কাজের মনোযোগকে বাড়িয়ে দেয়। আর তাই আমাদের ব্যস্ত জীবনে এমন ডিভাইস প্রয়োজন যেটা জীবনকে কঠিন নয় বরং আরও সহজ করবে। আর টেকনো মেগাপ্যাড এসই এমনই একটি ডিভাইস।

ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ও চোখের স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয়ে উন্নত একটি ডিসপ্লে-

সত্যি বলতে কোন ট্যাবলেট ঠিক কতটা ভালো এটা নির্ভর করে ট্যাবলেটটির স্ক্রিনের উপর। মেগাপ্যাড এসই রয়েছে ১১ ইঞ্চি আই কেয়ার ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে। আই কেয়ার ফিচার থাকার জন্য এর স্ক্রিনের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকা যায় চোখের সেই পরিচিত ক্লান্তি বা অস্বস্তি ছাড়াই। আর ৯০হার্জ রিফ্রেশ রেটে স্ক্রলিং হয় স্মুথ। এই স্ক্রিনে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, ই-বুক পড়া, ডকুমেন্ট এডিট করা সবকিছুই স্বচ্ছন্দে করা যাবে।

তবে আমার পছন্দের তালিকায় ডিভাইসটি থাকার বিশেষ কারণ চোখের সুরক্ষায় এটি “লো ব্লু লাইট সার্টিফাইড” । যাদের কাজ বা পড়াশোনার কারণে প্রায়ই রাত জেগে থাকতে হয় (হাত তুলুন আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন!) তাহলে সত্যিই এই স্ক্রিন আপনার চোখের জন্য স্বস্তির। এতে রয়েছে ৪৪০ নিটস ব্রাইটনেস যা বাংলাদেশের কড়া রোদের নিচেও ঝকঝকে পরিষ্কার স্ক্রিন দেখায়। আর না বললেই নয় এর ১৫০০ঃ১ কন্ট্রাস্ট রেশিও স্ক্রিনের ভিজুয়াল করে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়।

দেখতে মিনিমালিস্ট হলেও সলিড বিল্ট ডিভাইস–

ডিভাইসটি ওজনে এতোটাই হালকা যে সারা ঢাকা সারাদিন নিয়ে ঘুরলেও টের পাবে না সাথে আছে “মেগাপ্যাড এসই”। এর বডি মাত্র ৭মিলিমিটার পাতলা। পুরোটা মেটাল বডি এবং স্যান্ডব্লাস্টেড অ্যানোডাইজড ফিনিশ। একে এমন প্রিমিয়াম লুক দেয়, ব্যাগ থেকে বের করলেই মানুষের নজর আটকে যায়। এর মুনস্টোন গ্রে এবং গ্লেসিয়ার ব্লু রঙের অপশনগুলো দেখতে এতটাই ক্লাসি এগুলো দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা না করেই বলে- লুক অ্যাট মি!

এই ট্যাবলেটটি কফি শপের মিটিংয়ে যেমন মানায় তেমনি যাতায়াতের তাড়াহুড়োয় ব্যাগে থাকলেও কিছুই হয় না। এমনকি কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারের পরেও মনে হয় এটি আগের মতোই নতুন।

এআই যখন ভালো কিছু করে-

টেকনো বর্তমানে তাদের ডিভাইসে এআই প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। টেকনো মেগাপ্যাড এসই-তে একটি বিশেষ বাটন আছে। যা দিয়ে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট 'এলা'-কে ব্যবহার করা যায়। ফিচারটি শুধু নামমাত্র নয়। এটি প্রতিদিনের কাজে দারুণভাবে সাহায্য করে। এলা যা করতে পারে :

• লেখা ড্রাফট এবং এডিট: অবশেষে এমন কিছু যা অতিরিক্ত চিন্তা ছাড়ায় হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা অফিসের ইমেল ঠিকভাবে গুছিয়ে লিখতে সাহায্য করে। • টেক্সট বা ভয়েস অনুবাদ: আমরা যেভাবে বাংলা- ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলি ঠিক সেভাবেই লেখে। • ছবিকে ডকুমেন্টে রূপান্তর: হাতে লেখা নোট বা ক্লাসের হোয়াইটবোর্ডের ছবি তুলুন, 'এলা' সেটিকে এডিট করে ডকুমেন্টে বদলে দেয়। • স্কেচ এবং ডিজাইনের আইডিয়া: ক্রিয়েটিভ এবং ডিজিটাল ব্রেনস্টর্ম পার্টনার। • ছবি ও ওয়েবপেজ থেকে টেক্সট বের করে: ছবি থেকে লেখা ম্যানুয়ালি টাইপ করার দিন শেষ কারণ এলা কপি করে- নো টাইপ অনলি কপি! • হোমওয়ার্ক কুইন: আর নয় হোমওয়ার্কের ভয় সব উত্তর এলা দিয়ে দেয়।

এর কিছু ফিচার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর আপডেটের মাধ্যমে আসবে তাই সামনে দারুণ কিছু পাওয়ার সুযোগ। এক নির্দেশেই কাজ করে দেয়-

ট্যাবলেটটির ভেতরে রয়েছে শক্তিশালী কোয়ালকম স্নাপড্রাগনের ৮ -কোর (৬ ন্যানোমিটার) প্রসেসর যার ফলে একসাথে একাধিক কাজ করলেও ল্যাগের দেখা পাওয়া যায় না। ৪ জিবি ফিজিক্যাল র‍্যাম আর ৪জিবি মেমোরি ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে টোটাল ৮ জিবি র‍্যাম যোগ হওয়ায় পারফরম্যান্স আরও স্মুথ। এছাড়া ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের সুবিধা রয়েছে, আর মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়ানো যায়। সব মিলিয়ে কাজ, বিনোদন বা মাল্টিটাস্কিং এই ট্যাবলেট সহজেই সবকিছু সামলে নিতে পারে।

স্প্লিট-স্ক্রিন ফিচারটা সত্যিই অসাধারণ! এক পাশে ডকুমেন্ট, অন্য পাশে রেফারেন্স- এক নজরেই সব দেখা যায় মিনিটের মধ্যেই। এমনকি এক পাশে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে অন্য পাশে নোট বা ডকস দেখার কাজটাও একদম ঝামেলামুক্ত।

আরও ভালো খবর হলো, ডব্লিউপিএস অফিস আগে থেকেই ইনস্টল করা। তাই এক্সেল শিট এডিট করা হোক বা প্রেজেন্টেশন বানানো-আলাদা কোনো অ্যাপের দরকার নেই। সব মিলিয়ে, কাজের ক্ষেত্রে এই ট্যাবলেটটা সত্যিই একটা মাস্টারপিস।

যারা সারাদিন মিটিংয়ে থাকেন তাদের জন্য রেকর্ডিং আর ট্রান্সক্রিপশন ফিচারটা একদম গেম-চেঞ্জার। এলা নিজে থেকেই মিটিং রেকর্ড করে নোটের সারসংক্ষেপ বানিয়ে দেয়। মানে কেউ কথা বলছে আর আপনি হন্যে হয়ে খাতায় লেখার চেষ্টা করছেন, সেই দিন শেষ। ওয়েট! আর একটু সহজ করে বলি, মিটিং চলুক, আপনি শুধু শুনুন কারণ নোট নেওয়া এখন এলা-র কাজ!

সাউন্ড আর ক্যামেরা কি “স্টার ফিচার”-

আমরা প্রায়ই ট্যাবলেটের প্রসেসর, র‍্যাম বা স্টোরেজ নিয়ে কথা বলি কিন্তু সাউন্ড আর ক্যামেরাও হতে পারে আসল “স্টার”। কারণ মিটিং, ভিডিও কল বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনে এই ট্যাবলেটের সাউন্ড ক্লিয়ার- ইকো কম। আর ক্যামেরা, ভিডিও কল বা রেকর্ডিংয়ে ভালো আউটপুট মানে মিটিং, সিনেমা বা গান সবকিছু দারুণ।

এই প্রাইস রেঞ্জের ট্যাবলেটের জন্য ডলবি অডিওসহ কোয়াড-স্পিকার/ চার স্পিকার সিস্টেমটা সত্যিই দারুণ। নাটক, সিনেমা বা ইউটিউব ভিডিও যেটাই দেখুন না কেন ইমার্সিভ সাউন্ড কোয়ালিটি চমকে দেয়। ইউজার-ফ্রেন্ডলি ক্যামেরা, ফ্রন্টে ৫মেগাপিক্সেল (ওয়াইড, এইচডিআর, এআই বিউটি) আর রিয়ারে ৮ মেগাপিক্সেল ফ্ল্যাশসহ ভিডিও কল, ডকুমেন্ট স্ক্যান বা ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট।

ব্যাটারি লাইফ: আসল সত্যটা কি-

আট হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি চলবে দিনভর। সারাদিনের স্ট্যামিনা মাস্টার, ভিডিও দেখলে ১৫+ ঘণ্টা আর গান শুনলে ১৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। যারা মূলত রাতে চার্জে রাখেন কিংবা বেশিরভাগ সময় বাড়ি থেকেই কাজ করেন তাদের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক। তবে আসল কথা হল ট্যাবলেটের ১৮ ওয়াট চার্জিং যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। যারা রাতে বা কাজের ফাঁকে চার্জ করেন তাদের জন্য এটি উপযোগী।

কীবোর্ড যা বদলে দেয় সবকিছু -

একটি দারুণ সুবিধা হলো, টেকনোর এই ট্যাবলেটের সাথে আলাদা ব্লুটুথ কিবোর্ড ব্যবহার করা যায়। এই কিবোর্ডটাই পুরো অভিজ্ঞতাকে বদলে দেয়। তখন ট্যাবলেটটি শুধু সিনেমা দেখা বা গেম খেলার জন্য নয়, বরং ল্যাপটপের মতো অফিসের কাজও করতে পারে। কিবোর্ডটি কানেক্ট করার সাথে সাথেই ট্যাবলেটটিকে ল্যাপটপের মতো ব্যবহার করা যায়। দ্রুত লেখালেখি এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার সুবিধা পাওয়া যায়, সাথে ল্যাপটপের মতো ভারী কিছু বয়ে বেড়ানোর ঝামেলাও নেই। আলাদা কি?

✓ বাজেটের মধ্যে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা ✓ দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক ডিসপ্লে ✓ এআই ফিচার সত্যিই কাজকে সহজ করে ✓ অসাধারণ সাউন্ড কোয়ালিটি ✓ ল্যাগ ছাড়াই স্মুথ মাল্টিটাস্কিং ✓ টেকনো ইকোসিস্টেম সুবিধা (অন্য টেকনো ডিভাইসের সাথে সহজেই যুক্ত হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেবে) কোন ফিচার আরও ভালো হতে পারতো? ✗ চার্জিং গতি কিছুটা ধীর (১৮ ওয়াট)

এটা কি ‘টাকা উসুল’ ডিভাইস?

টেকনো মেগা প্যাড এসই আমাদের মতো ইউজারদের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করা শিক্ষার্থীদের জন্য। এমনকি অফিসের কাজ আর বাড়ির কাজ একসাথে সামলাতে যাদের সময় কম তাদের জন্য আর যারা সৃজনশীল কাজ করে কিন্তু বাজেট কম তাদের জন্য এটি দারুণ ডিভাইস। এমনকি যারা শুধু ব্রাউজিং বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে ভালো একটা ডিভাইস খুঁজছেন, তাদের জন্যও এটি উপযুক্ত।

২০,৯৯৯ টাকায় এই ট্যাবলেটটি ‘ভ্যালু ফর মানি’-এর বাস্তব উদাহরণ। এতে কোনো বাড়তি প্রতিশ্রুতি নেই-যা বলা হয়েছে, ঠিক সেটাই আপনি পাবেন। ডিজাইনে সুন্দর, আর পারফরম্যান্সেও নির্ভরযোগ্য।

যারা দৈনন্দিন কাজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ট্যাবলেট খুঁজছেন, যা বাংলাদেশের জীবনযাত্রার সাথে মানানসই-তাদের জন্য মেগাপ্যাড এসই একটি দারুণ বিকল্প। অল্প সময়েই এটি আপনার দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে, কারণ এটি সত্যিই আপনার জীবনকে সহজ করে তোলে।

আমি কি ডিভাইসটি কেনার পরামর্শ দেব? কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলবো-হ্যাঁ।

আসল প্রশ্নটা হলো: আপনি কি এমন ডিভাইস নিয়ে ‘মোটামুটি’ সন্তুষ্ট থাকবেন, নাকি এমন একটি ডিভাইস চান যা আপনার প্রয়োজন পূরণ করবে?

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X