বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্দিতে নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা করবেন যেভাবে

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭ এএম আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সর্দি-কাশির সময় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া, ভাইরাসজনিত সর্দি, ধুলাবালি, অ্যালার্জি কিংবা সাইনাসের সমস্যায় নাকের ভেতরের অংশ ফুলে গিয়ে শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে।

অনেকেই নাক বন্ধ হলেই দ্রুত নাকের ড্রপ বা বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে কিছু নাক খোলার ড্রপ দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহার করলে উল্টো নাক বন্ধ থাকার সমস্যা বাড়তে পারে। তাই সাধারণ সর্দি হলে প্রথমে কিছু নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতিতে আরাম পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

নাক বন্ধ হয় কেন?

নাকের ভেতরের আবরণে প্রদাহ ও ফোলাভাব তৈরি হলে নাসাপথ সরু হয়ে যায়। তখন নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি
  • অ্যালার্জি
  • সাইনাসের প্রদাহ বা সংক্রমণ
  • ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ
  • শুষ্ক আবহাওয়া
  • নাকের ভেতরের কিছু শারীরিক সমস্যা

সর্দিতে নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা-

১. লবণ-পানির নাকের স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন

নাক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখতে স্যালাইন নাসাল স্প্রে বা ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সাধারণত নিরাপদ এবং নাকের ভেতরের জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করে।

ঘরে স্যালাইন তৈরি করলে অবশ্যই নিরাপদ, ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি ব্যবহার করতে হবে। অপরিষ্কার বা সরাসরি কলের পানি নাকে দেওয়া উচিত নয়।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পর্যাপ্ত তরল পান করলে শরীর পানিশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং ঘন শ্লেষ্মা কিছুটা পাতলা হতে পারে। পানি, উষ্ণ তরল খাবার বা স্যুপ খেতে পারেন।

৩. উষ্ণ পরিবেশে থাকুন

গরম পানিতে ভেজানো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুখ ও নাকের আশপাশে কিছুক্ষণ হালকা উষ্ণ সেঁক দেওয়া যেতে পারে। এতে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।

তবে খুব গরম পানি বা অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করবেন না।

৪. ঘুমের সময় মাথা কিছুটা উঁচু রাখুন

নাক বন্ধ থাকলে ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচু করে শোয়া শ্বাস নিতে কিছুটা আরাম দিতে পারে।

৫. ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন

অ্যালার্জি বা ধুলাবালির কারণে নাক বন্ধ হলে ধোঁয়া, ধুলা, সুগন্ধি ও অন্যান্য বিরক্তিকর উপাদান থেকে দূরে থাকা জরুরি।

ভাপ নিলে কি নাক খুলে?

উষ্ণ বাষ্পে সাময়িকভাবে নাকের বন্ধভাব কমে আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে ফুটন্ত পানির পাত্রের ওপর মুখ নিয়ে ভাপ নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এতে দগ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই খুব গরম পানির সরাসরি ভাপ নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপদভাবে উষ্ণ, আর্দ্র পরিবেশে থাকা ভালো।

ইউক্যালিপটাস তেল বা ভিনেগার ব্যবহার করবেন?

নাক বন্ধ হলেই পানিতে ইউক্যালিপটাস তেল, আপেল সিডার ভিনেগার বা অন্য কোনো উপাদান মিশিয়ে খাওয়া কিংবা নাকে ব্যবহার করা প্রয়োজন নেই। এসব উপাদান নাক বন্ধের প্রমাণিত চিকিৎসা নয় এবং কারও কারও ক্ষেত্রে অস্বস্তি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে কোনো তেল বা রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি নাকের ভেতরে দেওয়া উচিত নয়।

নাক খোলার ড্রপ কত দিন ব্যবহার করবেন?

কিছু ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল স্প্রে দ্রুত নাক খুলতে সাহায্য করে। কিন্তু এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে রিবাউন্ড কনজেশন বা ওষুধ বন্ধ করার পর আরও বেশি নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

তাই এ ধরনের ওষুধ চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সাধারণ সর্দি-কাশির কারণে নাক বন্ধ হলে কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যাওয়ার কথা। তবে নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন-

  • দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • উচ্চ জ্বর থাকা
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা মুখে ব্যথা হওয়া
  • চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া
  • নাক থেকে রক্তপাত বারবার হওয়া
  • উপসর্গ ভালো হওয়ার পর আবার গুরুতরভাবে বেড়ে যাওয়া
  • শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট তৈরি হওয়া

সাধারণ সর্দিতে নাক বন্ধ হওয়া বেশির ভাগ সময় গুরুতর নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান, স্যালাইন নাসাল স্প্রে এবং ধুলাবালি এড়িয়ে চলার মতো সহজ পদক্ষেপে অনেক সময় আরাম পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর উপসর্গ হলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন