

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরেকটাইল ডিজফাংশন বা পুরুষের উত্থান ত্রুটি(পুরুষাঙ্গ না দাঁড়ানো) একটি পরিচিত যৌনস্বাস্থ্য সমস্যা। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গে পর্যাপ্ত উত্থান না হওয়া, উত্থান ধরে রাখতে না পারা কিংবা বারবার একই সমস্যা হওয়াকে সাধারণভাবে এই সমস্যার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে অনেক পুরুষ সংকোচে থাকেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নানা ধরনের হারবাল ওষুধ বা টোটকার আশ্রয় নেন। এতে কখনো কখনো সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
পুরুষাঙ্গের উত্থান একটি জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এতে মস্তিষ্ক, হরমোন, স্নায়ু, পেশি এবং রক্তনালির সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার কোনো একটিতে সমস্যা হলে ইরেকটাইল ডিজফাংশন হতে পারে।
আবার মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কের সমস্যাও যৌন সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মাঝেমধ্যে উত্থান কম হওয়া বা কোনো কারণে যৌন সক্ষমতায় সাময়িক পরিবর্তন হওয়া মানেই ইরেকটাইল ডিজফাংশন নয়। তবে নিয়মিতভাবে নিচের সমস্যাগুলো হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত-
দ্রুত বীর্যপাত বা বীর্যপাতের বিলম্ব আলাদা যৌনস্বাস্থ্য সমস্যা; এগুলো সবসময় ইরেকটাইল ডিজফাংশনের লক্ষণ নয়।
হ্যাঁ। যৌন সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা আগের ব্যর্থতার ভয় পরবর্তী যৌনমিলনে উত্থানের সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা বিষণ্নতাও যৌন আগ্রহ ও সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে শুধু শারীরিক কারণ নয়, মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমেই সমস্যাটি নিয়ে লজ্জা বা সংকোচ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, রক্তে শর্করা, হরমোনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনেও উপকার হতে পারে-
কিছু ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিজফাংশনের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট ওষুধ, ইনজেকশন বা অন্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলো সবার জন্য উপযুক্ত নয় এবং কিছু ওষুধের সঙ্গে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
তাই ফার্মেসি, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়।
সমস্যাটি কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত থাকলে, যৌন আগ্রহ হঠাৎ কমে গেলে কিংবা ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ইরেকটাইল ডিজফাংশন লজ্জার কোনো বিষয় নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর চিকিৎসা সম্ভব। সঠিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে যৌনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান দুটিই উন্নত করা যায়। বাজারচলতি টোটকা বা অজানা যৌনবর্ধক ওষুধের পরিবর্তে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



