

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চালিয়েও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এমনকি নিহত সাজিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের লকও খুলতে পারেনি সংস্থাটি।
হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা নানা অমীমাংসিত প্রশ্নেরও এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো উত্তর মেলেনি। ফলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
জানা যায়, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হত্যার রহস্য উদঘাটন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে সিআইডির তদন্তেও এ মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় একেরপর এক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। পরে বাধ্য হয়ে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিআইডিকে দিয়ে কিছুদিন পরপর ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সামনে মামলার অগ্রগতি নিয়ে সিআইডির ব্রিফিং করাতো। তবে আশাব্যঞ্জক কোনো ফল জানাতে না পারায় একসময় সেই ব্রিফিংও বন্ধ হয়ে যায়।
এভাবেই ৮ মাস পার হওয়ার পর সাজিদের বাবার আবেদনে চলতি বছরের মে মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে পাল্টে মহব্বত হোসেনকে দেওয়া হয়। তবে নতুন এ কর্মকর্তাও এ মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এদিকে সাজিদের মৃত্যুর পরও কয়েকবার তার মোবাইলে কল রিসিভ হয়। কিন্তু ওই কলগুলো কে রিসিভ করেছিল তার উত্তর মেলেনি। যেকারণে সার্বিক তদন্তের জন্য সাজিদের ফোনটি হেফাজতে নিয়েছিল সিআইডি। তবে দীর্ঘ ১৩ মাসেও ওই ফোনের লক খুলতে পারেনি সংস্থাটি।
এ বিষয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা মহব্বত হোসেন বলেন, সাজিদের ফোনের লক খোলার জন্য আমরা এক্সপার্টে পাঠালেও তারা লক খুলতে পারেনি। রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে এ ব্যাপারে তাদের সাথে পুনরায় কথা বলব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে লক খোলা সম্ভব হলে অবশ্যই সেই পদ্ধতি গ্রহণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দিক দিয়েই তদন্ত এগোনোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একে গাফিলতি বলার সুযোগ নেই। পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের আমরা প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সবকিছু প্রকাশ করতে পারছি না।


