শনিবার
১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স ফেরত দেবে সরকার?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাইসেন্স ফেরতের আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আবেদন পেয়ে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শন শেষে ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী বলেন, আমরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। তারা ব্যাপক সংস্কার করেছে। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর হাসপাতালের লাইসেন্স বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাস চলাচলসহ অসংগতিগুলো দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবকাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। ছবি– ঢাকা পোস্ট বিজ্ঞাপন

সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাস চলাচলসহ কিছু অসংগতির কথা উল্লেখ ছিল। তারা সেগুলো সংস্কার করেছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে হাসপাতালটির লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হতে পারে। সরকারের দিক থেকে এ ব্যপারে ইতিবাচক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক ধরনের প্রস্তুতিও চলছে!

আমরা হাসপাতালের অনেক কিছু সংস্কার করেছি। আশা করি সবকিছু পর্যালোচনা করে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত আছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আদ্-দ্বীনের বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন। হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে হাসপাতালটিতে ইন্টার্নশিপরত শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসকদের অনেকেই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার পর আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হাসপাতালটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। ছবি– ঢাকা পোস্ট এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে হাসপাতালটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রতিনিধি দলটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তারা আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দিলে ওই সপ্তাহের মধ্যেই হাসপাতালটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

গত সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যেও হাসপাতাল সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। সেদিন তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে হাসপাতালটির অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারের পদক্ষেপের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আইসিইউ ইউনিটের দরজা-জানালাসহ অবকাঠামোগত পরিবর্তন করেছে। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্যও তারা একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমরা দ্রুতই একটি পরিদর্শন দল পাঠাব। পরিদর্শন শেষে সবকিছু যৌক্তিক ও সন্তোষজনক মনে হলে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে হাসপাতালটির অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ চলছে এবং পরিদর্শন শেষে সবকিছু যৌক্তিক মনে হলে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জামালুন্নেছা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে হাসপাতালটির নার্সিং বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, আজ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালের সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করে গেছে। আমরা হাসপাতালের অনেক কিছু সংস্কার করেছি। আশা করি সবকিছু পর্যালোচনা করে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত আছি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ড-২-এ এক থেকে চার দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং একই দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব দিতে প্রথমে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও পরে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ৯ জুন তারা লিখিত জবাব দাখিল করে।

ওই জবাব পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার ওই জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ই বেশি ছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup