

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গরমের দিনে ঘেমে বাড়ি ফিরে বা ভারী কাজ করলে গলা শুকিয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও যদি বারবার গলা শুকিয়ে যায় আর যতই পানি খান না কেন, পিপাসা যদি না কমে- তবে এটা সাধারণ কোনো ক্লান্তি বা ক্লান্তিজনিত সমস্যা নয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে 'পলিডিপসিয়া', যা শরীরের ভেতর বড় কোনো রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পানি পান করলেই চলে না, রক্তে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজের সঠিক ভারসাম্যও দরকার। এই উপাদানগুলোকে একত্রে ইলেকট্রোলাইটস বলা হয়, যা শরীরের পানির মাত্রা ঠিক রাখতে এবং কোষগুলোকে সতেজ রাখতে পাহারাদারের মতো কাজ করে।
অনেকেরই একটা বদভ্যাস থাকে, তেষ্টা পাওয়া মাত্রই একবারে ঢকঢক করে অনেকটা পানি পান করে ফেলা। কিন্তু এভাবে অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পানে রক্তের সোডিয়াম বিপজ্জনকভাবে পাতলা হয়ে যায়। ফলে খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং কোষগুলো স্বাভাবিকভাবে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
রক্তে খনিজের এই সমস্যা হলে কোষে ঠিকমতো পানি ঢুকতে পারে না। এর ফলে শরীরে প্রচুর পানি থাকা সত্ত্বেও ভেতর থেকে কোষগুলো শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। আর ঠিক এই কারণেই বারবার পানি পানের পরেও ফের তীব্র পিপাসা পেয়ে গলা শুকিয়ে যায়।
ঘন ঘন এমন অস্বাভাবিক গলা শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে ডায়াবেটিস। রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কিডনি সেই বাড়তি চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার জন্য অতিরিক্ত চাপ নেয়। এতে ঘন ঘন বাথরুম যেতে হয়, শরীর দ্রুত পানি হারায় এবং বারবার তীব্র তেষ্টা পায়।
এছাড়া কিডনি বা লিভারের বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলেও শরীর ভেতর থেকে পানি হারাতে শুরু করে এবং রোগী বারবার অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব করেন।
পাশাপাশি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা টেনশন এবং কিছু কড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও মুখের লালা শুকিয়ে যেতে পারে। লালাক্ষরণ কমে গেলে জিভ আঠা আঠা লাগে আর সারাক্ষণ শুধু পানি খাওয়ার ইচ্ছে হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এমন লক্ষণ যদি টানা দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। খালি পেটে সামান্য কিছু রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করালেই আসল কারণটি খুব সহজে ধরা পড়ে। সময়মতো সতর্ক হয়ে চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতের বড় ধরনের বিপদ খুব সহজেই এড়ানো সম্ভব।


