

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিশুদের ক্লান্তি কখন সাময়িক বিরক্তি ছাড়িয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়, তা সময়মতো চিহ্নিত করা অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ছোটখাটো পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি শুরু হয়।
যেমন- স্কুল থেকে ফিরে খেলতে না গিয়ে সোফায় শুয়ে পড়া, মনোযোগের অভাবে হোমওয়ার্ক করতে বেশি সময় নেওয়া কিংবা ছুটির দিনে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা।
মাঝে মাঝে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্তানকে শ্রান্ত দেখলে তা গুরুত্বের সাথে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি শিশুর মনোযোগ, মেজাজ, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং মেধা বিকাশের পথ ব্যাহত করে।
শিশুদের এই স্থায়ী ক্লান্তির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করতে পারে:
১. মানসম্মত ঘুমের অভাব: শিশু রাতে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে ক্লান্ত থাকতে পারে। ছটফট করা, ঘন ঘন ঘুম ভাঙা, নাক ডাকা বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে তাদের গভীর ঘুম ব্যাহত হয়, যা শরীর পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জরুরি।
২. আয়রনের ঘাটতি (অ্যানিমিয়া): রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হওয়ার আগেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। আয়রন রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। এর সামান্য ঘাটতিও শিশুকে ক্লান্ত ও খিটখিটে করে তোলে।
৩. স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea): এটি এমন একটি ঘুমের সমস্যা যা সহজে নজর কাড়ে না। রাতে জোরে নাক ডাকা, হাঁপানো বা শ্বাসের সাময়িক বিরতির ফলে শিশুর মস্তিষ্ক বারবার জেগে ওঠে। শিশুরা এটি ক্লান্তির বদলে আচরণগত সমস্যা (যেমন: চঞ্চলতা বা মনোযোগের অভাব) হিসেবে প্রকাশ করে।
৪. শোবার আগে স্ক্রিন টাইম: টিভি, মোবাইল বা ট্যাবের নীল আলো ঘুমের নির্দেশক হরমোন 'মেলোটোনিন' উৎপাদনে বাধা দেয়। রাতে স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে।
৫. হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গেলে ক্লান্তির পাশাপাশি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়া, অহেতুক ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়।
৬. মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা: প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরা মানসিক চাপ প্রকাশের সঠিক ভাষা জানে না। বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা মানসিক ক্লান্তি অনেক সময় তাদের শারীরিক ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন কিংবা প্রিয় কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
৭. অসংমিত খাদ্যভ্যাস: সকালের নাস্তা না খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবার বা অনিয়মিত আহারের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। ফলে বিকেলের দিকে শিশু শক্তিহীন বোধ করে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
শিশুর ক্লান্তি যদি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয় কিংবা এর সাথে ফ্যাকাশে ভাব, হুট করে ওজন কমে যাওয়া/বেড়ে যাওয়া এবং মেজাজের তীব্র পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তবে কালক্ষেপণ না করে পেডিয়াট্রিশিয়ান বা শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শেই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।



