

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আধুনিক শহর আর প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে আমাদের জীবন সহজ হলেও মানুষ দিন দিন একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। চারপাশে হাজারো মানুষের ভিড় থাকলেও শহরের অনেকেই এখন চরম একাকিত্বে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই একাকিত্ব শুধু মন খারাপের কারণ নয়, এটি আমাদের শরীরের- বিশেষ করে হার্টের খুব মারাত্মক ক্ষতি করে।
শহরে এখন বেশিরভাগ পরিবারই ছোট। সবাই নিজের মতো ফ্ল্যাটবাড়িতে বন্দি জীবন কাটান। পড়াশোনা বা চাকরির টানা ব্যস্ততা, জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করা আর মোবাইলে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে মেতে থাকার কারণে সামনাসামনি মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় থাকে না। অনলাইনে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও মনের কথা খুলে বলার মতো বা বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ শহরের জীবনে কমে গেছে।
এই একাকিত্ব যখন দীর্ঘদিন ধরে চলে, তখন শরীর এটাকে একধরনের বড় বিপদ হিসেবে ধরে নেয়। ফলে শরীরে এমন কিছু হরমোন বেশি তৈরি হতে থাকে যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, হার্টের ধমনি সংকুচিত করে এবং রক্তনালীতে চর্বি জমতে সাহায্য করে। এর ফলে ধীরে ধীরে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব শরীরের জন্য প্রতিদিন ১৫টি সিগারেট খাওয়ার মতোই ক্ষতিকর।
শুধু তা-ই নয়, একাকী মানুষ সহজে বিষণ্ণতায় ভোগেন। তখন তাদের খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম হয়, শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটাচলা কমে যায় এবং দুশ্চিন্তা থেকে অনেকে ধূমপানের মতো খারাপ অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভ্যাসের কারণে হার্টের সমস্যা আরও বাড়ে।
এই সমস্যা থেকে বাঁচতে আমাদের নিজেদেরই কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। মোবাইল স্ক্রিনের বাইরে এসে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বাড়াতে হবে, বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের সময় দিতে হবে। শহরের মাঝে মানুষের হাঁটাচলা ও মেলামেশার জন্য পার্ক বা খোলা জায়গা তৈরি করা দরকার। ধূমপান বা প্রেশারের মতো একাকিত্বকেও যে একটা বড় রোগ হিসেবে দেখতে হবে, এটি উপলব্ধি না করলে আমরা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারব না।


