

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাধারণ পেটে ব্যথা, বুক জ্বালা বা পেট ফাঁপাকে আমরা অনেকেই 'গ্যাস-অম্বল' ভেবে এড়িয়ে যাই এবং নিয়মিত অ্যান্টাসিড খেয়ে ফেলি।
কিন্তু এই সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ, কারণ পরিপাকতন্ত্রের এই সাধারণ সমস্যার ছদ্মবেশেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কিডনিতে পাথর জমার মতো গুরুতর ব্যাধি।
ভিন্ন অঙ্গ, কিন্তু একই স্নায়ুপথ
বাহ্যিকভাবে পাকস্থলী এবং কিডনি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অঙ্গ হলেও, স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষ গঠনের কারণে এদের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিডনি ও মূত্রনালি থেকে যে স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কে অনুভূতির সংকেত পাঠায় সেগুলো পরিপাকতন্ত্রের স্নায়ুপথের সাথেই যুক্ত।
ফলে কিডনিতে পাথর জমে প্রদাহ তৈরি হলে পেটের স্নায়ুগুলোও উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক তখন ব্যথার সঠিক উৎস চিনতে না পেরে কিডনির সমস্যাকে পরিপাকতন্ত্রের গোলমাল ভেবে ভুল করে।
এই দুই ব্যাধির প্রাথমিক লক্ষণে দারুণ কিছু মিল থাকার কারণেই মূল বিভ্রান্তিটি তৈরি হয়। উভয় ক্ষেত্রেই পেটে ও তার চারপাশে চাপ চাপ ব্যথা হতে পারে, সঙ্গে ক্ষুদা কমে যাওয়া, খাবারে তীব্র অরুচি এবং বমি ভাব থাকতে পারে।
এমনকি গ্যাস-অম্বলের মতো কিডনিতে পাথর জমার প্রাথমিক অবস্থায় পেট ফুলে থাকা বা খাবার খাওয়ার পরেই পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
লক্ষণ দেখে আসল পার্থক্য চেনার উপায়
রোগটি কিছুটা এগোলেই এদের বাহ্যিক লক্ষণগুলোতে স্পষ্ট পার্থক্য ফুটে ওঠে। সাধারণত অম্বলের ক্ষেত্রে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া পেটের ঠিক মাঝখানে, বুকের কাছে এবং খাদ্যনালি দিয়ে গলা পর্যন্ত উঠে আসে।
কিন্তু কিডনিতে পাথরের সমস্যা বাড়লে ব্যথা পেটের নিচের অংশ, পিঠ ও কোমর থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
সেই সঙ্গে প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাব আটকে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসার মতো মূত্রসংক্রান্ত লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অসচেতনতার ঝুঁকি ও সঠিক করণীয়
মূলত অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার অভ্যাস অম্বলের পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি হলেই নিজের মনমতো অ্যান্টাসিড খেয়ে লক্ষণ ধামাচাপা না দিয়ে, সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
