

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় লিওনেল মেসিদের।
ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয় স্পেন।
ফাইনালের পুরো ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আক্রমণে ছিল না ধার
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে তেমন কোনো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। কর্নার আদায়েও ব্যর্থ হয় স্কালোনির দল। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় স্পেনের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে পারেননি মেসি-আলভারেজরা। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দূরপাল্লার একটি শট এবং জুলিয়ানো সিমিওনের একটি সুযোগ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ দেখা যায়নি।
মাঝমাঠে স্পেনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে স্পেন। রদ্রি ও পেদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে তারা। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতি আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। স্পেনের উচ্চ-চাপের ফুটবলের সামনে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা।
এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড
নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই বিভাগেই ভারসাম্য হারায় দলটি। ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে এই লাল কার্ড।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মেসি
আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু মাঝমাঠ থেকে পর্যাপ্ত বল না পাওয়ায় তিনি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। স্পেনের কড়া মার্কিং এবং সতীর্থদের কার্যকর সহায়তার অভাবে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। হুলিয়ান আলভারেজ মাঠ ছাড়ার পর আক্রমণে মেসির দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলেও তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
রক্ষণে এক মুহূর্তের ভুল
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিকো উইলিয়ামসের হেড হয়ে পৌঁছে যায় ফেরান তোরেসের কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। পুরো ম্যাচে ক্রস ও সেট-পিস সামলাতে আর্জেন্টিনার রক্ষণে যে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই ভুলেরই চড়া মূল্য দিতে হয় তাদের।
যদিও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একাধিক দারুণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন, তবে আক্রমণে ধারহীনতা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লাল কার্ড এবং রক্ষণে এক মুহূর্তের ভুল-সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় আলবিসেলেস্তেদের। অন্যদিকে পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর ফুটবল খেলেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে স্পেন।
