

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজকের আধুনিক সমাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, টিভি দেখা বা ফোন ব্যবহার করা অনেকেরই নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অলস বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন যে কেবল হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ায় তা নয়, নতুন গবেষণা বলছে- এটি ক্যান্সারের ঝুঁকির সাথেও সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে।
গবেষণাটি যেভাবে করা হয়েছে
‘প্লস মেডিসিন’ (PLOS Medicine) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৯১ হাজারেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তাদের হাতে থাকা পরিধানযোগ্য ডিভাইস (Wearable Device) থেকে প্রাপ্ত ডেটা গড়ে ১২ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি
মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি: যারা একটানা বেশি সময় বসে থাকেন, তাদের ক্যান্সার হওয়া এবং ক্যান্সারে মারা যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতি ঘণ্টার প্রভাব: একটানা বসে থাকার প্রতি অতিরিক্ত ১ ঘণ্টার জন্য ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০% বৃদ্ধি পায়।
ক্যান্সারের ধরনসমূহ: অলস জীবনযাপনের কারণে মূলত কোলোরেক্টাল (মলাশয়), স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
কেন বাড়ে এই ঝুঁকি? (চিকিৎসকদের মতামত)
যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অনকোলজিস্ট ডক্টর ডেভিড ইয়াশারের মতে, দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে শরীরে মূলত দুটি বড় সমস্যা দেখা দেয়:
১. স্থূলতা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ: অলসতায় ওজন বাড়ে। শরীরের এই অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Inflammation) সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সার কোষ গঠনে সহায়তা করে।
বিশেষ করে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সাথে এর বড় সংযোগ রয়েছে।
২. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: দীর্ঘদিন ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত না করলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এটি স্তন ক্যান্সারের মতো হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অল্প নড়াচড়াতেই মিলবে বড় সমাধান!
গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা বসে না থেকে খুব সামান্য শারীরিক পরিশ্রম বা হালকা নড়াচড়াও ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি দারুণভাবে কমিয়ে দিতে পারে:
১২% ঝুঁকি হ্রাস: প্রতিদিন ১ ঘণ্টা বসে থাকার বদলে যদি ঘরের হালকা কাজ (যেমন: কাপড় ইস্ত্রি করা বা থালা-বাসন ধোয়া) করা হয়।
৮% ঝুঁকি হ্রাস: প্রতিদিন ৩০ মিনিট বসে থাকার পরিবর্তে যদি স্বাভাবিক গতিতে একটু হাঁটাচলা করা হয়।
২২% ঝুঁকি হ্রাস: প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম (যেমন: দ্রুত দৌড়ানো বা ভারী ব্যায়াম) করলে মৃত্যুঝুঁকি এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যায়।
সতর্কতা:
গবেষকরা এবং ওপেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেভিন ম্যাককনওয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক (Observational) গবেষণা।
তাই শুধু এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই "বসে থাকাই ক্যান্সারের সরাসরি কারণ"- এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সুস্থ থাকতে অলসতা কাটিয়ে একটু আধটু নড়াচড়া করার কোনো বিকল্প নেই।

