

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে টসটসে লাল লিচুর লোভ সামলানো দায়। কিন্তু এই মধুর স্বাদের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা অবহেলা করলে ডেকে আনতে পারে প্রাণহানি। পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল নিয়মে লিচু খাওয়া শরীরের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বিশেষ করে খালি পেটে লিচু খাওয়া যেন এক অদৃশ্য বিষের মতো কাজ করে। বিজ্ঞানের ভাষায়, লিচুতে রয়েছে ‘হাইপোগ্লাইসিন’ নামের একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান, যা শরীরে নতুন করে শর্করা বা গ্লুকোজ তৈরিতে বাধা দেয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর বা খালি পেটে যখন কেউ প্রচুর লিচু খায়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে নেমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’।
খালি পেটে লিচু খেলে যা হতে পারে:
• প্রাথমিক লক্ষণ: তীব্র দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং বমি বমি ভাব।
• গুরুতর অবস্থা: রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা।
• মারাত্মক পরিণতি: মস্তিষ্কে পুষ্টির অভাব ঘটে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি রোগী কোমাতেও চলে যেতে পারে।
অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যারা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের জন্য এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অতীতের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অঞ্চলে খালি পেটে অপরিপক্ক লিচু খাওয়ার কারণে অনেক শিশুর আকস্মিক মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। এছাড়া অপরিপক্ক বা কাঁচা লিচুতে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেশি থাকে এবং অনেক সময় চাষিদের দেওয়া রাসায়নিক কীটনাশকও এই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত লিচু খেলে ওজন বাড়তে পারে এবং গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তবে এজন্য লিচু বর্জন করার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সঠিক নিয়মের। লিচু খাওয়ার আগে অবশ্যই পেট ভরে অন্য স্বাভাবিক খাবার খেয়ে নিন। শিশুদের খালি পেটে কখনোই লিচু খেতে দেবেন না। সবসময় পাকা ও ভালোভাবে ধোয়া লিচু পরিমিত পরিমাণে খান এবং খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সচেতনতাই পারে এই সুস্বাদু ফলটিকে আপনার জন্য নিরাপদ রাখতে।
