

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাসাবাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সবদিকে নজর থাকলেও কিছুটা অবহেলায় থেকে যায় রান্নাঘর। বসার বা শোবার ঘরের মতোই প্রয়োজন আধুনিক রান্না ঘরের। তাই রান্নাঘর তৈরি করা উচিৎ নান্দনিক ও কাজ সহজে করার সুবিধা অনুযায়ী।
রান্নাঘরে যেসব আবশ্যকীয়:
প্রথমত থাকা উচিৎ বেসিন, যেখানে সব পানির কাজ হবে। পরবর্তীতে চুলা, যেখানে রান্না হবে। গ্যাস অথবা বৈদ্যুতিক চুলা ছাড়াও থাকতে পারে ওভেন। ধোঁয়া বের করে দেওয়ার জন্য চুলার ওপর শক্তিশালী হুড লাগাতে হবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপ স্ট্যান্ড, যেখানে কাটাকুটির কাজ করা যাবে, রাখা যাবে জিনিসপত্র। প্রথমেই এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার জন্য নিচে-ওপরে যথেষ্ট প্যান্ট্রি স্টোরেজ ইউনিট তৈরি করতে হবে। পর্যাপ্ত যায়গা থাকলে ফ্রিজ রাখা যেতে পারে রান্নাঘরে।
যে নকশায় তৈবি হয় রান্নাঘর:
আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এল-আকার রান্নাঘর। তবে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট বা ছোট বাসায় সরলরৈখিক নকশায় রান্নাঘর তৈরি করতে হয়। কিন্তু ইউ-আকারের রান্নাঘরকে বলা হয় সর্বজনীন রান্নাঘর। তাই একটু বাড়তি জায়গা রেখে মাঝারি বা বড় বাসাগুলোতে এ ধরনের রান্নাঘর তৈরির পরামর্শ দিলেন স্টুডিও সিয়েনার স্থপতি রিজওয়ানুল আলীম। তিনি বলেন, এক পাশে জানালা থাকলেও প্রয়োজনীয় আসবাবের জন্য এখানে আরও দুটি পাশ পাওয়া যায়, মাঝেও পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে। দুটি লম্বা দেয়াল থাকলে তৈরি করা যেতে পারে প্যারালাল রান্নাঘর। এর সুবিধা হচ্ছে, একটি দেয়ালে শুকনা (ড্রাই) ও অন্য দেয়ালে ভেজা (ওয়েট) রান্নাঘর তৈরি করা যায়। আইল্যান্ড রান্নাঘরকে বলা হয় সবচেয়ে বিলাসবহুল। এ ক্ষেত্রে সরলরৈখিক, এল বা ইউ-আকারের রান্নাঘর তৈরির পর মাঝের খালি জায়গায় টেবিলের মতো আরও একটি আইল্যান্ড বসানো হয়। এটিকে রান্নার জায়গা, স্টোরেজ, টেবিল ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেমন হতে পারে একটি পরিকল্পিত রান্নাঘর:
একটি ‘ত্রিভুজ সূত্র’ আছে। তিন দিকে বেসিন, চুলা এবং ফ্রিজ, তিনটি অংশ বসানো হয়। একটি থেকে আরেকটি খুব বেশি দূরে রাখা যাবে না, কাছেও রাখা যাবে না। এরপর ভাবতে হবে বায়ু চলাচলের পথ নিয়ে। এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পথ, যেমন জানালা রাখা সবচেয়ে ভালো। এমন যেন না হয় যে রান্নাঘর দিয়ে বাতাস ঢুকে বাসার অন্য ঘরগুলোতে যাচ্ছে। এতে গন্ধের সমস্যা হবে। সে জন্য অতিরিক্ত হুড রাখতে হবে।
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রান্নাঘরে গুরুত্বপূর্ন:
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খুব জরুরি, কিন্তু আমাদের এখানে উপেক্ষিত। রান্নাঘর যেমনই হোক, বাড়ির সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই–অক্সাইড বা আর্গন গ্যাসসমৃদ্ধ একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কিনে রাখতে পারেন।
মন্তব্য করুন
