

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস (World Letter Writing Day)। অস্ট্রেলীয় লেখক, শিল্পী ও আলোকচিত্রী রিচার্ড সিম্পকিন ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ দিবসের প্রবর্তন করেন।
ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে দ্রুতগতির ইমেইল বা মেসেজিংয়ের ভিড়ে হাতে লেখা চিঠির ঐতিহ্য, নস্টালজিয়া এবং আন্তরিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
এই দিবসের প্রেক্ষাপট মূলত ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে রিচার্ড সিম্পকিনের ব্যক্তিগত এক অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয়। সেসময় তিনি নিজ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বা ‘অস্ট্রেলিয়ান লেজেন্ড’-দের সঙ্গে দেখা করা, সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং আলোকচিত্র ধারণের অনুরোধ জানিয়ে নিয়মিত হাতে লেখা চিঠি পাঠাতেন।
পরবর্তীতে যখন তিনি সেই ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে হাতে লেখা চিঠিতেই আন্তরিক সাড়া পেতে শুরু করেন, তখন তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত ও অভিভূত হন।
চিঠি আদান-প্রদানের এই অনন্য অভিজ্ঞতা থেকে রিচার্ড সিম্পকিন ২০০৫ সালে ‘অস্ট্রেলিয়ান লেজেন্ডস’ (Australian Legends) নামে একটি সমাদৃত বই প্রকাশ করেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি অনুধাবন করেন যে, একটি হাতে লেখা চিঠি কেবল বার্তা পৌঁছায় না, বরং প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে এক গভীর আবেগীয় ও মানসিক মেলবন্ধন তৈরি করে।
সেই আবেগ ও ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা থেকেই তিনি চিঠি লেখার এই বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৪ সালে ১ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।
বর্তমান ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে হাতে লেখা চিঠি এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়। ইমেইল বা টেক্সট মেসেজ দ্রুত পৌঁছালেও হাতে লেখা কাগজের চিঠিতে যে সময়, মনোযোগ ও আন্তরিকতা জড়িয়ে থাকে, তা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ করা অসম্ভব।
এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাসীকে অন্তত একদিনের জন্য হলেও স্ক্রিন থেকে দূরে এসে পরিবার, বন্ধু বা প্রিয় কোনো মানুষকে হাতে কলমে একটি চিঠি লেখার আহ্বান জানানো।


