

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবন আর ইট-কাঠের খাঁচা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই চান প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু নিঃশ্বাস নিতে। তবে ঢাকার বাইরে দূরে কোথাও ভ্রমণ করা মানেই যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও সময়ের এক বিশাল খরচ।
সুসংবাদ হলো- একদিনের ছুটিতেই ঢাকার আশেপাশে দারুণ কিছু মনোরম স্থান থেকে ঘুরে আসা সম্ভব, যা আপনার ক্লান্তি দূর করে মনকে নিমেষেই সতেজ করে তুলবে।
এমনই দারুণ ৫টি ডে-ট্যুর স্পট ও তাদের ভ্রমণ গাইড -
১. গোলাপ গ্রাম (সাদুল্লাপুর)
নদীপথ পার হয়ে ছোট্ট একটি গ্রাম, যার পুরোটাই গোলাপের বাগানে ঘেরা। সরু পথ দিয়ে হাঁটার সময় রাস্তার দুই পাশের রঙ-বেরঙের গোলাপ বাগান আপনাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবে।
যাতায়াত: মিরপুর দিয়াবাড়ী বটতলা ঘাট থেকে সাদুল্লাপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পর পর ইঞ্জিনচালিত বোট ছাড়ে। সময় লাগে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা (ভাড়া জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা)। এছাড়া হাতে টানা নৌকা নিলে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।
২. পানাম নগর ও মেঘনার পার
পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি হলো সোনারগাঁয়ের পানাম নগর। এটি ঈসা খাঁ-র আমলের বাংলার প্রাচীন রাজধানী, যেখানে শত বছরের পুরনো ভবনের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
পানাম নগর ঘুরে কাছেই মেঘনা নদী থেকে ঘুরে আসতে পারেন, যার ওপারে রয়েছে কাশবনে ঘেরা বিস্তৃত মাঠ।
যাতায়াত: ঢাকার গুলিস্তান থেকে ‘মোগরাপাড়া’গামী বাস (যেমন: সোনারগাঁও পরিবহন)-এ উঠে মোগরাপাড়া নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশায় মাত্র ১০-১৫ মিনিটে চলে যাওয়া যায় পানাম নগরে।
৩. বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের অন্যতম বড় এবং সুসংরক্ষিত জমিদার বাড়ি। মোট সাতটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে এটি গঠিত।
যাতায়াত: গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ বা সাটুরিয়াগামী বাসে চেপে সাটুরিয়া নামতে হবে (ভাড়া ৬০-৭০ টাকা)। সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে ১০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি জমিদার বাড়ি যাওয়া যায়।
জরুরি তথ্য: প্রবেশের টিকিট ফি ১০ টাকা। বাড়িটি রোববার পূর্ণদিবস, সোমবার অর্ধদিবস এবং সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।
৪. মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের অপরূপ কারুকার্যময় মহেরা জমিদার বাড়ি (বর্তমানে মহেরা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) ৩টি প্রধান ভবন ও সুন্দর সবুজ চত্বর নিয়ে তৈরি। বাড়ির ভেতরের বিশাল খাঁচায় হরেক রকমের পাখি পালন করা হয়, যা দেখার মতো এক দৃশ্য।
যাতায়াত: ঢাকা (মহাখালী) থেকে টাঙ্গাইলগামী বাস যেমন "ঝটিকা সার্ভিস"-এ উঠে 'নাটিয়া পাড়া' বাস স্টপ বা স্ট্যান্ডে নামতে হবে (সময় লাগে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা)। সেখান থেকে ২০-৩০ টাকা অটোরিকশা ভাড়ায় সরাসরি পৌঁছানো যাবে জমিদার বাড়িতে।
জরুরি তথ্য: প্রবেশ টিকেট ফি জনপ্রতি ২০ টাকা। দূরত্বের কারণে সকাল সকাল রওনা দেওয়া ভালো।
৫. পদ্মা রিসোর্ট, মুন্সীগঞ্জ
ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কি.মি. দূরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা নদীর চরের ওপর গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। বিশেষ করে বর্ষাকালে এখানকার পরিবেশ দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
এখানে পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশসহ হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়।
যাতায়াত: গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা-মাওয়া বা ঢাকা-লৌহজংয়ের বাসে উঠে লৌহজং/মাওয়া ঘাটে নামতে হবে (ভাড়া প্রায় ৬০ টাকা)। নদী পার হয়ে রিসোর্টে যাওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব স্পীডবোটের ব্যবস্থা রয়েছে।
খরচ ও কটেজ: সকালের নাস্তা ১০০ টাকা এবং দুপুর/রাতের খাবার জনপ্রতি ৩০০ টাকার মতো। দিনব্যাপী (সকাল ১০টা - সন্ধ্যা ৬টা) কটেজ ভাড়া ২,০০০ টাকা এবং ২৪ ঘণ্টার জন্য ৩,০০০ টাকা।
কাজের ফাঁকে একদিনের বিরতি নিয়ে প্রিয়জনকে সাথে করে ঘুরে আসুন এসব জায়গায়- মন ভালো হতে বাধ্য!