বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গড়গড় করে ইংরেজি বলা কি আসলেই জরুরি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

আমাদের সমাজে ইংরেজি কেবল একটি ভাষা নয়, এটিকে প্রায়ই যোগ্যতা এবং বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। এই চাপের পেছনে মূল কারণগুলো হলো:

সামাজিক মর্যাদা: অনেক সময় ধরে নেওয়া হয় যে ভালো ইংরেজি বলতে পারা ব্যক্তিটি বেশি মার্জিত বা উচ্চ শিক্ষিত।

কর্পোরেট সংস্কৃতি: বহুজাতিক কোম্পানি বা আধুনিক স্টার্টআপগুলোতে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ইংরেজি। ফলে ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন- সবখানেই এক ধরণের অদৃশ্য প্রতিযোগিতা কাজ করে।

ভুল করার ভয়: ব্যাকরণগত ভুল বা উচ্চারণে আঞ্চলিক টান থাকলে লোকে হাসাহাসি করবে, এই ভয় মানুষকে আরও বেশি আড়ষ্ট করে তোলে।

এই অতিরিক্ত চাপ একজন মানুষের ক্যারিয়ার ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে-

আত্মবিশ্বাসের অভাব: একজন ব্যক্তি কাজে অত্যন্ত দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও কেবল ইংরেজি বলার জড়তার কারণে মিটিংয়ে নিজের আইডিয়া প্রকাশ করতে পারেন না।

ইমপোস্টার সিন্ড্রোম: নিজের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মনে হতে থাকে ‘আমি বোধহয় এই জায়গার যোগ্য নই।’

কমিউনিকেশন গ্যাপ: ‘গড়গড়’ করে বলতে গিয়ে মানুষ অনেক সময় মূল বিষয়টি গুছিয়ে বলতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। পেশাদার দুনিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার কথা অপরপক্ষ বুঝতে পারছে কি না।

ফ্লুয়েন্সি বনাম অ্যাকুরেসি: গড়গড় করে অনর্গল ভুল বা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার চেয়ে, ধীরস্থিরভাবে সঠিক এবং স্পষ্ট কথা বলা অনেক বেশি কার্যকর।

গ্লোবাল একসেন্ট: বর্তমান কর্পোরেট বিশ্বে ‘নিটিভ স্পিকারদের’ মতো উচ্চারণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। গ্লোবাল বিজনেস ওয়ার্ল্ডে আপনার নিজস্ব উচ্চারণ বা একসেন্ট নিয়েই স্পষ্ট করে কথা বলাটাই গ্রহণযোগ্য।

এই চাপ কাটিয়ে ওঠার উপায়-

মানসিকতার পরিবর্তন

ইংরেজিকে একটি "যোগাযোগের মাধ্যম’ হিসেবে দেখুন, মেধার পরিমাপক হিসেবে নয়। ভুল করাকে শেখার অংশ হিসেবে মেনে নিন। ভুল সবাই করে, এমনকি যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি তারাও।

টেকনিক্যাল কৌশল

গড়গড় করে বলার চেষ্টা না করে একটু সময় নিয়ে ধীরে কথা বলুন। এতে চিন্তা করার এবং সঠিক শব্দ চয়ন করার সময় পাওয়া যায়।

কঠিন বা জাঁকজমকপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। সহজ শব্দে মনের ভাব প্রকাশ করাটাই আসল বুদ্ধিমত্তা।

কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বা প্রেজেন্টেশনের আগে মূল পয়েন্টগুলো নোট করে রাখুন এবং আয়নার সামনে বা রেকর্ডার অন করে একা একা অনুশীলন করুন।

নিয়মিত অভ্যাস

প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট ইংরেজি পডকাস্ট শুনুন বা আর্টিকেল পড়ুন। এতে শব্দভাণ্ডার (Vocabulary) নিজে থেকেই সমৃদ্ধ হবে। এমন একজন বন্ধু বা সহকর্মী খুঁজে নিন, যার সাথে কোনো দ্বিধা ছাড়াই ইংরেজিতে কথা বলার প্র্যাকটিস করা যায়।

গড়গড় করে ইংরেজি বলা কোনো জাদুকরী বিদ্যা নয়, এটি কেবলই একটি দক্ষতা যা অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। পেশাদার ক্ষেত্রে দক্ষতার মূল চাবিকাঠি হলো স্পষ্টতা এবং আত্মবিশ্বাস।

আপনি কতটা দ্রুত বলছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আপনি কতটা নির্ভীক ও স্পষ্টভাবে আপনার বক্তব্য তুলে ধরছেন সেটিই আসল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Czechia VS South Africa
Scheduled
18 Jun, 10:00 PM
VS
World Cup