শনিবার
০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খারাপ খবর পড়ার নেশা, ডুমস্ক্রলিং কি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে আঙুল ঘষতে ঘষতে একের পর এক খারাপ, হতাশাজনক বা নেতিবাচক খবর পড়ে যাওয়ার যে অদ্ভুত ও ক্ষতিকর অভ্যাস, তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় ডুমস্ক্রলিং (Doomscrolling)।

এখানে 'Doom' শব্দের অর্থ ধ্বংস বা অমঙ্গল, আর 'Scrolling' মানে স্ক্রিনে আঙুল দিয়ে ওপর-নিচে নামা। অর্থাৎ, নিজের অজান্তেই অনবরত খারাপ খবরের পেছনে ছুটে চলা এবং স্ক্রিনের সামনে আটকে থাকাই হলো ডুমস্ক্রলিং।

খারাপ খবর কারো ভালো লাগার কথা নয়, তাও মানুষ কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এতে বুঁদ হয়ে থাকে? এর পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে-

মানুষের আদিম স্বভাব হলো বিপদ সম্পর্কে আগে থেকে সচেতন হওয়া। আমরা ভাবি, যত বেশি জানবো, তত বেশি সুরক্ষিত থাকবো। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে এই জানার কোনো শেষ নেই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি যা আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয়। আপনি একবার একটা নেতিবাচক খবরে ক্লিক করলে, অ্যালগরিদম আপনাকে বারবার ওই ধরনের খবরই দেখাতে শুরু করে।

তবে, এই অভ্যাসটি দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি আমাদের মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

সারাক্ষণ যুদ্ধ, মহামারি, অপরাধ বা অর্থনৈতিক মন্দার খবর পড়তে পড়তে মস্তিস্ক ধরে নেয় আমরা সার্বক্ষণিক বিপদের মধ্যে আছি। ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বাড়ে। আবার, রাতে ঘুমানোর আগে ডুমস্ক্রলিং করলে স্ক্রিনের নীল আলো এবং খবরের উত্তেজনা- দুটো মিলেই ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয়। চারপাশের পৃথিবীটাকে শুধু নিষ্ঠুর ও অনিরাপদ মনে হতে থাকে, যা একসময় বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয়।

এই ডিজিটাল নেশা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কিছু সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দিনে ঠিক কতক্ষণ খবরের পেছনে ব্যয় করবেন তা নির্দিষ্ট করুন (যেমন- সকালে ১৫ মিনিট, সন্ধ্যায় ১৫ মিনিট)। প্রয়োজনে ফোনে স্ক্রিন-টাইম ট্র্যাকার বা অ্যাপ লক ব্যবহার করুন।

দিনের শুরু এবং শেষটা অন্তত নেতিবাচক খবর দিয়ে করবেন না। বিছানায় যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন দূরে রাখুন। আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু অ্যাকাউন্ট বা পেজ ফলো করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয়, নতুন কিছু শেখায় বা অনুপ্রেরণা জোগায়।

ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বিরতি নিয়ে বই পড়ুন, গান শুনুন, পরিবারের সাথে কথা বলুন কিংবা একটু হাঁটতে বের হন। প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য আমাদের জীবনকে সহজ করা, বিষাদগ্রস্ত করা নয়। তাই স্ক্রল করার সময় একটু থামুন এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন- এই খবরটি কি সত্যিই আপনার কোনো উপকারে আসছে? না হলে স্কিপ করে যাওয়াই মঙ্গল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন