

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কর্মরত নাগরিক প্লাটফর্ম ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’-এর নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গঠিত ওই কমিটিতে আমিনুর রসুল সভাপতি ও সাকিলা পারভিন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাজধানীর হুমায়ন রোডে ‘লিডার্স’ কার্যালয়ে আগের কমিটির আহ্বায়ক আমিনুর রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ১৭ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। এরমধ্যে ৭ সদস্যের নির্বাহী কমিটি নির্বাচন করা হয়। নির্বাহী কমিটিতে সভাপতি ও সহ-সভাপতি ছাড়াও আছেন সাধারণ সম্পাদক মোহন কুমার মণ্ডল (সাচিবিক দায়িত্বে), গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক রায়হান ফেরদৌস, যুব প্রতিনিধি শ্রুতি রানী দে এবং কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী ও খাদিজা খানম। এছাড়া উপদেষ্টা কমিটিতে আছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং উন্নয়নকর্মী সৈয়দা শামীমা সুলতানা।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আমিনুর রসুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এরমধ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমরা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের নতুন কমিটি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অ্যাডভোকেসির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের মানুষের অধিকার রক্ষা এবং টেকসই জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে জলবায়ু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন লিডার্সের অ্যাডভোকেসি অফিসার সাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি উপকূলীয় অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুপেয় পানির সংকট উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সংকট মোকাবেলায় উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন, উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সুন্দরবন সংরক্ষণ, জেলে সম্প্রদায়ের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিতসহ ২১ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।