বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাগরে গভীর নিম্নচাপ, হঠাৎ বেড়েছে শীতের তীব্রতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দেশের ১৯ জেলায় শীতের দাপট কমছে না। উত্তরাঞ্চল থেকে উপকূল পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছু দিন চলবে। একই সময়ে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শ্রীলঙ্কার উত্তরের উপকূল অতিক্রম করছে।

শুক্রবার পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৪ ডিগ্রি।

আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও সারা দেশে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজ করতে পারে এবং কিছু স্থানে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, নিম্নচাপটি আগে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। তবে এখন এটি দুর্বল হয়ে শ্রীলঙ্কার উপকূল অতিক্রম করেছে। প্রভাবে দেশের আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন হতে পারে, তবে অন্য কোনো প্রভাব নেই।

যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ রোববারও বিরাজ করবে। জানুয়ারি মাসের পুরো সময় শীত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচল, স্কুল-কলেজ, দিনমজুর ও দরিদ্র মানুষদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছয় দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।

কৃষি খাতে প্রভাব: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। চারাগুলো হলদে হয়ে গেছে, বৃদ্ধি ব্যাহত এবং কিছু জায়গায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ধান রোপণের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কৃষকরা পলিথিন ও খড় দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখলেও তেমন কাজে আসছে না। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জলঢাকা উপজেলায় প্রায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি হয়েছে।

অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে, তবে রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কমবে। হালকা সেচ দেওয়া, সকালে জমির পানি বের করা, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা ও প্রয়োজনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শীতকালে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পরতে পারে, তাই সতর্ক থাকার পাশাপাশি কৃষক ও জনসাধারণকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন