রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে দিশেহারা মানুষ, এলপিজির দাম আকাশচুম্বী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই সংকট শিগগির কাটার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

পাইপলাইনে সরবরাহ কমে যাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। একই সঙ্গে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং গ্রাহকদের দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

সরকার একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে ঘরোয়া ব্যবহার থেকে শুরু করে পরিবহন খাত পর্যন্ত। অনেক এলাকায় রান্নার গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, পরিবহন খাতে এলপিজির সংকটে যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

কেন বাড়ছে সংকট

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের পর থেকেই দেশে গ্যাস সংকট প্রকট হতে শুরু করে। স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ার বিপরীতে নতুন কোনো বড় রিজার্ভ আবিষ্কার হয়নি।

ফলে এখন এলএনজি আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। শীতকালে পাইপলাইনে জলীয় বাষ্প জমে গ্যাস প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং একই সময়ে গৃহস্থালিতে চাহিদা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

২০১০ সাল থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অন্তত ১৫ জানুয়ারির আগে এলপিজি সংকটের উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সরকারি ব্যাখ্যা

গ্যাস পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সংকট মোকাবিলায় নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানো যায়।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে গ্যাসের দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে এলএনজি আমদানিসহ সরবরাহ রয়েছে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন ১ থেকে দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।

ভোগান্তিতে নগরবাসী

গত ডিসেম্বর থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। চলতি মাসে তা আরও প্রকট হয়েছে। গভীর রাতে সামান্য গ্যাস মিললেও ভোরের পর অনেক এলাকায় চুলা জ্বলে না। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

রাজধানীর ভূতের গলি এলাকার বাসিন্দা কামরুল শিকদার বলেন, গত ১৫ দিন ধরে পরিবারের সব খাবার বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। গ্যাসের বিল ঠিকই নেওয়া হচ্ছে, অথচ গ্যাস নেই- ফলে খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদপুর, মুগদা, বাড্ডা, রামপুরা, শনিরআখড়া, পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, শাজাহানপুর, জুরাইন, কেরানীগঞ্জ, সায়েদাবাদ, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।

এলপিজির দাম আকাশচুম্বী

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার পরিবর্তে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। পান্থপথের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বেশি দামে কেনার কারণে দোকান বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কারণ বেশি দামে বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা গুনতে হয়।

অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধের আশঙ্কা

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, সরকারের উৎসাহে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে এবং এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে দেড় লাখের বেশি যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র সংকটের কারণে প্রায় সব স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

পরিবহন খাতে প্রভাব

এলপিজির পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X