

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বরেণ্য লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন।
তার জামাতা সাজ্জাদুর রহমান খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর তাকে ডায়ালাইসিসের জন্য মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ওই চিকিৎসার পর অবস্থা গুরুতর হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বুধবার অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও অবশেষে তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে শুরু করেন তার পেশাদার সংগীতজীবন। পারিবারিক অনুপ্রেরণাতেই গানের ভুবনে আসা তার—কারণ বাবার সংগীতপ্রেম ও দাদির গান করার ঐতিহ্য ছিল পরিবারের অংশ।
চাকরিজনিত কারণে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় বেড়ে ওঠা ফরিদা ছোটবেলায় ছিলেন চঞ্চল ও খেলাধুলাপ্রিয়। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া শহরে বসে তিনি লালনসংগীতকে নিজের সাধনা বানান। প্রায় ৫৫ বছরের দীর্ঘ সংগীতজীবনে ফরিদা পারভীন লোকসংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
লালনসংগীতকে প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, তার মৃত্যু দেশের সংগীতজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে।
মন্তব্য করুন

