

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২৩০ কেজি ওজন থেকে এক ধাক্কায় ১২০ কেজি কমিয়ে ফেলা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য লড়াই।
প্রখ্যাত গায়ক আদনান সামি কীভাবে কেবল মনের জোর আর জীবনযুদ্ধের অদম্য ইচ্ছায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন, তার গল্প যেন যেকোনো মানুষের জন্যই এক বড় অনুপ্রেরণা।
ঘটনার শুরু তখন, যখন চিকিৎসকেরা আদনান সামিকে সরাসরি জানিয়ে দেন- তার হাতে সময় আছে আর মাত্র ৬ মাস। এই ভয়াবহ সতর্কবার্তা শুনে তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। তবে তার নিজের চেয়েও বেশি ভেঙে পড়েছিলেন পাশে বসে থাকা বাবা।
চিকিৎসকের মুখে ছেলের মৃত্যুর এই চরম দিনক্ষণ শুনে বাবার চোখে পানি চলে আসে। আদনানের জানান, নিজের কষ্টের চেয়েও প্রিয়জনের চোখের পানি দেখা সবচেয়ে কঠিন। বাবার সেই কান্না ও কান্নাভেজা চোখই আদনানের ভেতরের মানুষকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দেয়।
প্রথমে আদনান ভেবেছিলেন চিকিৎসক হয়তো একটু বাড়িয়ে বলছেন বা নাটক করছেন। তিনি বাবাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু তার বাবা তা মানেননি, বরং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে চিকিৎসক একদম সঠিক কথাই বলছেন।
বাবার এই গভীর হতাশা ও ভয় দেখেই আদনান জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিজ্ঞাটি করেন। যেকোনো মূল্যে এই পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সেসময় রটেছিল আদনান সামি নাকি অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) মাধ্যমে ওজন কমিয়েছেন। তবে এই গুঞ্জন পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, কোনো সার্জারি নয়- কঠোর ডায়েট কন্ট্রোল আর নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ভরসা করেই তিনি এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।
এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। হাড়ভাঙা খাটুনি আর প্রিয় সব খাবার ত্যাগ করার পরও যখন দেখতেন ওজন মাত্র আধা কেজি কমেছে, তখন চরম হতাশা এসে ঘিরে ধরত।
মনে হতো এত কষ্টে আসলেই কি কোনো লাভ হচ্ছে? কিন্তু প্রতিবারই বাবার কাছে করা প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ে যেত, আর তাই শত হতাশাতেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।
‘লিফট করা দে’ বা ‘তেরা চেহারা’র মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা আদনান সামি আজ হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা। ১২০ কেজি ওজন ঝরিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা কেবল ওজন কমানোর গল্প নয়, এটি তার হার না মানা মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।