

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রখ্যাত লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে হঠাৎ বমি শুরু হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার অবস্থা বিবেচনায় আইসিইউতে স্থানান্তর করেন।
সংগীতাঙ্গনের এই দিকপাল শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ফুসফুসের জটিলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও থাইরয়েডের সমস্যাও রয়েছে তার। সম্প্রতি শ্বাসকষ্ট ও বমি বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত ও সহশিল্পীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করছেন।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুতেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ফরিদা পারভীন। তখনও আইসিইউতে রেখে একাধিক মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে ২১ জুলাই বাসায় ফেরেন।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরে জন্মগ্রহণ করা ফরিদা পারভীন বেড়ে উঠেছেন কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত গাওয়ার মাধ্যমে তার শিল্পীজীবন শুরু। পরে দেশাত্মবোধক গান এবং বিশেষ করে লালনসংগীতে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছ থেকে তিনি লালনসংগীতে বিশেষ তালিম নিয়েছিলেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক অর্জন করেন। ২০০৮ সালে জাপান সরকার তাকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার প্রাইজ’-এ ভূষিত করে। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সম্মাননা পান।
শিশুদের লালনসংগীত শেখানোর উদ্দেশ্যে ফরিদা পারভীন প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘অচিন পাখি স্কুল’, যা এখনো লালনসংগীত চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মন্তব্য করুন

