

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের সমাজে নারীদের পথচলা আজও মসৃণ নয়। সম্প্রতি একজন তরুণ চিকিৎসকের অকাল মৃত্যু এবং অন্য এক নারী চিকিৎসকের বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।
নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে তিনি মেয়েদের উদ্দেশ্যে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন।
শবনম ফারিয়ার মতে, একজন মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার আর্থিক স্বাধীনতা। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আগে এবং স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত কোনো মেয়েরই বিয়ে করা উচিত নয়। জীবনের প্রেম-ভালোবাসা বা অন্য যেকোনো সামাজিক সিদ্ধান্ত কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নকে কখনো অবহেলা করা ঠিক নয়।
সমাজ এখনো নারীর জন্য শতভাগ নিরাপদ হয়ে ওঠেনি। অনেক সময় শুধু অর্থনৈতিকভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে বহু নারীকে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করতে হয়। এই বৃত্ত থেকে বের হতে হলে নারীদের উপার্জনের ক্ষমতা থাকা জরুরি।
শবনম ফারিয়া নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনিও একটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক বৈবাহিক জীবন পার করেছেন। তবে তিনি আর্থিকভাবে স্বাধীন ছিলেন বলেই সঠিক সময়ে নিজের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তি রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
অভিনেত্রী সমাজে প্রচলিত তুলনামূলক মানসিকতারও সমালোচনা করেন। একেকজন নারীর জীবনের লড়াই ও পরিস্থিতি একেক রকম। দীর্ঘ ১১ বছরের একটি সংসার ভাঙার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ থাকে। তাই একজনের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে অন্য আরেকজন নারীর জীবনসংগ্রামকে ছোট করা বা কটূক্তি করা মোটেও উচিত নয়।
সবশেষে, সন্তানের সুখের চেয়ে "সমাজ কী বলবে"- এই চিন্তাকে প্রাধান্য দেওয়া বাবা-মা এবং সামাজিক মানসিকতাকে তিনি তীব্র ধিক্কার জানান। শবনম ফারিয়ার এই বার্তা মূলত প্রতিটি মেয়ের চোখ খুলে দেওয়ার মতো এক বাস্তব দলিল।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মেয়েরা যখন নিজেরা আয় করবে এবং পরিবারে সমান অবদান রাখবে, তখন যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের সম্মান ও শান্তি বজায় রাখার চাবিকাঠি থাকবে তাদের নিজেদের হাতেই।
